
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ ও ফেনী অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসন এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণে প্রস্তাবিত ‘মুছাপুর রেগুলেটর নির্মাণসহ ছোট ফেনী ও বামনী নদী অববাহিকায় সমন্বিত বন্যা ও নদী ব্যবস্থাপনা এবং নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন (অংশ-১)’ প্রকল্পের এলাকা পরিদর্শন কর্মসূচি সম্পন্ন হয়েছে।
আজ (১০ মার্চ ২০২৬) মঙ্গলবার দুপুরে ছোট ফেনী নদীর ওপর ৯০০ কোটি টাকার ‘মুছাপুর রেগুলেটর’ নির্মাণ প্রকল্প ও কোম্পানীগঞ্জে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করলেন সরকারের দুই মন্ত্রী। এসময় স্থানীয় জনগণের দাবি-দাওয়া শোনা হয়।
পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, আমরা যে চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছি তা শুধু মুছাপুর বা কোম্পানীগঞ্জ ও ফেনী নয়, আমাদের নোয়াখালী এবং লক্ষ্মীপুর—পুরো পানি নোয়াখালী হয়ে লক্ষ্মীপুর হয়ে মেঘনা নদীতে যায়।
তিনি আরও বলেন, আমরা যদি এই প্রকল্পটি কোনোভাবে না করি, তাহলে প্রতি বছর আমরা সমস্যায় পড়ব, ডোবা-পানিতে বসবাস করব। আমাদের আরও যুদ্ধ করতে হবে। এ জন্য একটি সুযোগ রয়েছে। এবং এই সুযোগটি আমরা দীর্ঘদিন পরে পেয়েছি। আপনারা আমাদের নির্বাচিত করেছেন, এটি আমাদের দীর্ঘ দিনের দাবি। এবং আপনাদের এই দাবির প্রতি সম্মান জানিয়েছিলেন মরহুমা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।
২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট প্রবল বর্ষণ ও উজানের ঢলে মুছাপুরের ২৩ ভেন্টের পুরোনো রেগুলেটরটি ভেঙে যায়। এর ফলে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ এবং ফেনীর সোনাগাজী ও দাগনভূঁইয়া উপজেলায় ব্যাপক নদীভাঙন দেখা দেয়।
ভয়াবহ এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ওই স্থানে নতুন একটি রেগুলেটর নির্মাণের জন্য ৮৯৬ কোটি ৬১ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। বর্তমানে প্রকল্পটি একনেক পাসের অপেক্ষায় রয়েছে। অনুমোদন পেলে চলতি মাস থেকেই কাজ শুরু হয়ে ২০৩০ সালের জুন নাগাদ শেষ হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
২০০৫ সালে উপকূলীয় অঞ্চলের ভাঙন রোধে ১৯ কোটি ৪৪ লাখ ৭৪ হাজার টাকা ব্যয়ে প্রথমবারের মতো ২৩ ভেন্টের মুছাপুর রেগুলেটর নির্মাণ শুরু হয়েছিল। ওই বছরের ৮ মার্চ সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন।
নোয়াখালী জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে গেস্ট অব অনারের বক্তব্য রাখেন, বন-পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পূর্ব রিজিয়ন) অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. মাহবুবুর রহমান, কুমিল্লা পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর ছিদ্দিক, ফেনীর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হাছান মাহমুদ, নোয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম রিফাত জামিল উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন