
নওগাঁর যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২ থেকে রায়ের অপেক্ষায় থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার নথি চুরি এবং তা ফেরত দেওয়ার নামে চাঁদা দাবির ঘটনায় আদালতের পিয়ন ও মুহুরীসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। একই সাথে উদ্ধার করা হয়েছে চুরি হওয়া মামলার মূল নথি।
গত ২১ মে (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যায় জেলা ও দায়রা জজ মহোদয় বিষয়টি নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামকে জানানোর পর পুলিশের বিশেষ অভিযানে এই চক্রটিকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২ এর দায়রা মামলা নম্বর- ৯০৪/২০২২ এর রায় ঘোষণার কথা ছিল। কিন্তু রায় প্রকাশের আগেই আদালত থেকে মামলার মূল নথিটি গায়েব হয়ে যায়। এর পরপরই একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে আদালতের কর্মচারীর কাছে ফোন করে নথি ফেরত দেওয়ার বিনিময়ে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।
বিষয়টি জানার পর পুলিশ সুপারের কঠোর নির্দেশনায় মাঠে নামে জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একটি চৌকস দল। তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার চুলচেরা বিশ্লেষণ করে প্রথমে চোর সনাক্ত করা হয়। এরপর নওগাঁ সদরের শৈলগাছি ইউনিয়নের সিংবাচা বাজার থেকে মূল অভিযুক্ত এস এম আকাশ (২৬)-কে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী বাড়ির আঙিনায় খড়ের পালা থেকে চুরিকৃত নথিটি উদ্ধার করে পুলিশ।
আসামি আকাশের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নওগাঁ সদর ও বগুড়ার আদমদীঘি এলাকায় অভিযান চালিয়ে চুরির সাথে সরাসরি জড়িত আদালতের ৩ কর্মচারীকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন—
১. পলাশ (পিয়ন, যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২, নওগাঁ)।
২. আরিফ (পলাশের ভাই এবং পিয়ন, সাপাহার সাব-জজ আদালত)।
৩. সবুজ (৪০) (কোর্টের মুহুরী, রানীনগর উপজেলার তেবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা)।
গ্রেফতারকৃত এস এম আকাশ চুরির সাথে নিজের এবং আদালতের কর্মচারীদের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে বিজ্ঞ আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। এই চক্রের পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য বা আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা উদঘাটনে পুলিশের তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য করুন