
আগামী ২৮ মে পবিত্র ঈদুল আজহা। এ উপলক্ষে কুমিল্লা জেলায় ৪৩২ টি গরুর হাটি বসেছে। ইতোমধ্যে হাটগুলোতে অবকাঠামো প্রস্তুত, নিরাপত্তা জোরদার এবং স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন উদ্যোগ।
কুমিল্লা জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলার ১৭ উপজেলায় কোরবানির জন্য মোট ২ লাখ ৫৯ হাজার গবাদিপশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২ লাখ ৭১৭টি গরু, ১ হাজার ৭৪৮টি মহিষ, ৫৪ হাজার ৮৫২টি ছাগল, ৩ হাজার ২৩৫টি ভেড়া এবং অন্যান্য পশু ১৯৬টি।
কুমিল্লা নগরের ফুলতলি এলাকার ফরিদ এগ্রো ফার্মের উদ্যোক্তা দেলোয়ার হোসেন মানিক বলেন, আমাদের ফার্মে বড় আকারের দামি গরুর সংখ্যা বেশি। আমি বেশি দামে গরু কিনেছিলাম। এখন সেই গরু বড় হয়েছে। খরচ বেশি গেছে। তাই দাম বেশি। আমার ফার্মের গরুর গায়ের রঙ সুন্দর। কোরবানিতে সুন্দর গরু দিতে হয়। নিঁখুত পশু লাগে।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মাসকরা এলাকার গৃহস্থ আবদুর রশিদ বলেন, ‘গত বছর ভারতীয় গরুর কারণে লোকসান হয়েছে। এবার কয়েকটি গরু লালন-পালন করেছি। সীমান্তে কড়াকড়ি থাকলে দেশি গরুর দাম ভালো পাওয়া যাবে।’
এদিকে প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানায়, চলতি বছর কুমিল্লার ছোট ও মাঝারি খামারগুলোতে দেশীয় জাতের গরু পালনে আগ্রহ বেড়েছে। অনেক খামারি প্রাকৃতিক খাবার ও ঘাসভিত্তিক পদ্ধতিতে পশু মোটাতাজা করেছেন। এতে খামারিদের উৎপাদন খরচ কিছুটা কমেছে এবং ক্রেতাদের মধ্যেও স্থানীয় পশুর প্রতি আস্থা তৈরি হয়েছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সামছুল আলম বলেন, ‘এবার জেলার খামারিরা স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে দেশীয় পদ্ধতিতে পশু লালন-পালন করেছেন। আমরা নিয়মিত খামার পরিদর্শন করছি। কোনো ধরনের ক্ষতিকর ওষুধ বা রাসায়নিক ব্যবহার যেন না হয়, সে বিষয়েও নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘স্থানীয় খামারিদের উৎপাদিত পশুর মান ভালো হওয়ায় বাজারে দেশীয় গরুর চাহিদা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে খামারিরা লাভবান হবেন।’
মন্তব্য করুন