
প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে যে টুথপেস্ট দিয়ে দাঁত ব্রাশ করছেন, সেটিতেই যদি ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা বা মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকে তাহলে বিষয়টি নিশ্চয়ই উদ্বেগের। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি গবেষণায় এমনই তথ্য উঠে এসেছে, যা নিয়ে ভোক্তাদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
পরিবেশ ও সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা (ESDO) এক বছরব্যাপী গবেষণায় দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া ১৯টি ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনা পরীক্ষা করে। গবেষণায় দেখা যায়, পরীক্ষিত ৩৪টি নমুনার মধ্যে ২৬টিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি রয়েছে। পরীক্ষাগুলো জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এনভায়রনমেন্টাল হেলথ অ্যান্ড ইকোটক্সিকোলজি (EHE) ল্যাবরেটরিতে স্টেরিও মাইক্রোস্কপি ও FTIR প্রযুক্তির মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়।
গবেষণা প্রতিবেদনে সবচেয়ে বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে *Mediplus Fluoride Gel*-এ, যেখানে প্রতি ১০০ গ্রামে ৩২০টি পর্যন্ত প্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। এছাড়া *Closeup Red Hot*, *Closeup Menthol Fresh*, *Kodomo Ultra Shield Formula*, *Signal Green Tea*, *Pepsodent Advanced Salt*, *Himalaya Complete Care* এবং *Sensodyne Fresh Mint*- এও বিভিন্ন মাত্রায় মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
শিশুদের জন্য তৈরি কয়েকটি টুথপেস্ট নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। গবেষণায় *Kodomo Ultra Shield Formula*, *Meril Baby Strawberry*, *Meril Baby Orange* এবং *Pepsodent Kids Orange*-এ মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতির কথা বলা হয়েছে।
তবে সব পণ্যে একই ফল পাওয়া যায়নি। গবেষণায় *Zenfresh*, *Parachute Just for Baby (Mango)* এবং *Closeup Red Hot Zinc Fresh Technology*-এর নমুনায় শনাক্তযোগ্য মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হওয়া মানেই তাৎক্ষণিকভাবে সেটি মানুষের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। তবে দীর্ঘমেয়াদে এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আরও গবেষণা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার স্বাধীন যাচাই জরুরি।
এদিকে গবেষণার ফল প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট মহলে টুথপেস্টের মান নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করা, নিয়মিত ল্যাব পরীক্ষা চালু করা এবং ভোক্তাদের জন্য উপাদান সম্পর্কে স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশের দাবি জোরালো হয়েছে।
মন্তব্য করুন