
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) এক ছাত্রীকে রাতে হলে ফেরার পথে টেনে-হিঁচড়ে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১২ মে) রাত আনুমানিক ১১ টা ১০ মিনিটের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত পুরাতন ফজিলতুন্নেছা হল সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে আশপাশের পথচারীরা ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যান।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনার পর সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় এক ব্যক্তিকে ঘটনাস্থলের আশপাশে দেখা গেলেও এখনো তার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। অভিযুক্তকে চিহ্নিত করতে তদন্ত চলছে।
ভুক্তভোগীর সঙ্গে থাকা কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, রাত আনুমানিক ১১ টা ১০ মিনিটের দিকে ওই ছাত্রী হলের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় এক ব্যক্তি তাকে অনুসরণ করতে থাকেন। একপর্যায়ে পুরাতন ফজিলতুন্নেছা হল সংলগ্ন সড়কে এসে ওই ব্যক্তি শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলা শুরু করেন।
ভুক্তভোগী তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কি না জানতে চাইলে অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী পরিচয় দেন এবং পাশের বিশমাইল এলাকায় থাকেন বলে জানান। পরে কথোপকথনের একপর্যায়ে তিনি রুমাল দিয়ে শিক্ষার্থীর গলা পেঁচিয়ে তাকে জোরপূর্বক অন্ধকার স্থানে নিয়ে যান এবং ধর্ষণের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
পরে ওই শিক্ষার্থী কোনোভাবে নিজেকে রক্ষা করে সড়কে উঠে আসেন। এ সময় পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রের কর্তব্যরত চিকিৎসক তানভীর হোসেন বলেন, “ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।”
চিকিৎসাকেন্দ্রের নার্স আলমগীর হোসেন বলেন, “শিক্ষার্থীকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে।”
এরপর ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখা কার্যালয়ে নেওয়া হয়। রাত দুইটার দিকে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, ভুক্তভোগী, কয়েকজন নারী শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও জাকসুর কয়েকজন নেতা সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করছেন। এ সময় নিরাপত্তা শাখা কার্যালয়ের বাইরে অন্যান্য শিক্ষার্থীরাও অবস্থান নেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক একেএম রাশিদুল আলম বলেন, “এটি অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক ঘটনা। আমরা সিসিটিভি ফুটেজে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে শনাক্ত করেছি, তবে এখনো তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানের ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তাকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পাশে রয়েছে এবং দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মন্তব্য করুন