
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) সায়েন্স ক্লাবের (আইইউএসসি) আয়োজনে ইবিতে “২য় আইইউএসসি ন্যাশনাল সায়েন্স ফেস্টিভ্যাল ২০২৬” সম্পন্ন হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা প্রাঙ্গণে বর্ণাঢ্য আয়োজনে দুই দিনব্যাপী এ ফেস্টিভ্যাল চলে।
সোমবার (১১ মে) দুপুরে এক বর্ণাঢ্য র্যালির মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ। দুই দিনব্যাপী উৎসবে নানান আয়োজন শেষে মঙ্গলবার (১২ মে) পুরষ্কার বিতরণী ও সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এ ফেস্টিভ্যালের পর্দা নামে।
সমাপনী অনুষ্ঠানে সংগঠনটির সভাপতি জুনাইদুল মোস্তফার সভাপতিত্বে উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকিব মুহাম্মদ নসরুল্লাহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম। এ ছাড়াও ‘গেস্ট অব অনার’ হিসেবে পুবালী ব্যাংকের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. শাহনেওয়াজ খান ও ‘চীফ প্যাট্রন’ হিসেবে সংগঠনটির উপদেষ্টা ও ইবি আইসিটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহজাহান আলী উপস্থিত ছিলেন।
পুবালী ব্যাংক পিএলসির পৃষ্ঠপোষকতায় এবং সোহান’স কোচিংয়ের সহযোগিতায় আয়োজিত এই জাতীয় বিজ্ঞান উৎসবে দেশের ১০০টিরও বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন বলে আয়োজকরা জানান।
উৎসবে প্রজেক্ট প্রদর্শনী, বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড, পোস্টার প্রেজেন্টেশন, থ্রি মিনিট প্রেজেন্টেশন, সায়েন্স বিঙ্গো, ট্রেজার হান্ট, ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতা, রুবিক্স কিউব প্রতিযোগিতা, দাবা প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন জ্ঞানভিত্তিক আয়োজন ছিল। এ ছাড়া থিয়েটার রুমে 4ডি ও 9ডি মুভি শোর ব্যবস্থাও রাখা হয়েছিল।
উৎসবের প্রথম দিন ১১ মে র্যালির পরে একযোগে এক্সিবিশন হলে প্রজেক্ট শোকেস, সায়েন্স গ্যালারিতে পোস্টার প্রেজেন্টেশন, সেমিনার রুমে থ্রি মিনিট প্রেজেন্টেশন এবং ইনডোর গেমস রুমে দাবা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর মূল অডিটোরিয়ামে সায়েন্স বিঙ্গো এবং থিয়েটার রুমে ৪ডি ও ৯ডি মুভি শো অনুষ্ঠিত হয়।
দ্বিতীয় দিন ১২ মে বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড ও রুবিক্স কিউব প্রতিযোগিতা সম্পন্ন হয়। এরপর এক্সিবিশন হলে দ্বিতীয় দিনের প্রজেক্ট শোকেস এবং আর্ট গ্যালারিতে ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। ক্যাম্পাসজুড়ে ট্রেজার হান্ট এবং বিকেলে মুভি শো অনুষ্ঠিত হয়। মূল অডিটোরিয়ামে পুরস্কার বিতরণী ও সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উৎসবের পর্দা নামে।
সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ সায়েন্স ক্লাবকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সায়েন্স ক্লাবের এ আয়োজন পূর্ণতা পেত না, যদি না বিভিন্ন স্কুল-কলেজের ক্ষুদে বিজ্ঞানীরা এখানে অংশগ্রহণ করতো। আমরা আশির দশকে যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তাম আর এখন ত্রিশের দশকে যারা কলেজে বা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ো তাদের মধ্যে অনেক পার্থক্য। এই পার্থক্য হচ্ছে চিন্তার পার্থক্য। এই পার্থক্য আনয়নে সহযোগিতা করেছে বিজ্ঞানের জ্ঞান। এটি আসলে সমাজ পরিবর্তনের জন্য ইনস্ট্রুমেন্টাল। এজন্য আমরা যত বিজ্ঞান চর্চা করব, সমাজ তত এগিয়ে যাবে।
তিনি আরও বলেন, তোমাদের যে ইনোভেটিভ আইডিয়া, চিন্তা করতে যে শেখা, এটি জ্ঞানকে অব্যহত রাখার জন্য, জ্ঞানের দ্বারা কোনোকিছু সৃষ্টি করার জন্য এটি অতি প্রয়োজনীয় বিষয়। আমাদেরকে পড়তে হবে, ভাবতে হবে, উৎপাদন করতে হবে, তৈরি করতে হবে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শুধু পাঠমুখী হয়ে গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গবেষণামুখী হওয়া প্রয়োজন। এই ধরনের আয়োজনগুলো খুবই ইনস্পায়ারিং। এ ধরনের বিজ্ঞান মেলা শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, উদ্ভাবনী চিন্তা ও গবেষণামুখী মানসিকতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
মন্তব্য করুন