তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৬:০৬ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

চা-শ্রমিকদের প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থ নিয়ে বড় দুশ্চিন্তায়

দেশের চা শিল্পের প্রাণ ভোমরা চা শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তার প্রধান অবলম্বন প্রভিডেন্ট ফান্ড (পিএফ) এখন চরম সংকটে। ১৬৭টি চা বাগানের মধ্যে ৫৮টি বাগানে শ্রমিকদের সঞ্চিত পিএফ-এর বিপুল পরিমাণ অর্থ বকেয়া পড়ে আছে। ফলে অবসরের পর বা জরুরি প্রয়োজনে নিজেদের কষ্টার্জিত অর্থ পাওয়া নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন হাজার হাজার শ্রমিক।

নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি মাসে চা শ্রমিকদের মূল বেতনের ৭.৫% টাকা প্রভিডেন্ট ফান্ডের জন্য কেটে নেওয়া হয়। বাগান কর্তৃপক্ষ সমপরিমাণ অর্থাৎ আরও ৭.৫% অর্থ যোগ করে মোট ১৫% টাকা এই তহবিলে জমা দেওয়ার কথা। এছাড়া প্রশাসনিক ব্যয় বাবদ এই মোট অর্থের ওপর আরও ১৫% অর্থ বাগান কর্তৃপক্ষকে জমা দিতে হয়। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, শ্রমিকদের অংশ ঠিকই কেটে নেওয়া হচ্ছে, অথচ মালিকপক্ষ সেই টাকা সময়মতো তহবিলে জমা দিচ্ছে না।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রামভজন কৈরি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শ্রমিকের টাকা কেটে নিয়ে বাগান কর্তৃপক্ষ তা দিয়ে ব্যবসা করছে। সময়মতো টাকা জমা না হওয়ায় শ্রমিকরা কেবল দুশ্চিন্তায় নেই, বরং তাদের প্রাপ্য সুদের অংকও কমছে।

ভবিষ্যত তহবিল নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের ২৮শে ফেব্রুয়ারি হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী ৫৮টি চা বাগানে পিএফ-এর টাকা বকেয়া রয়েছে। বকেয়ার মেয়াদ বাগানভেদে ৩ মাস থেকে ২ বছর পর্যন্ত। শ্রমিক নেতাদের মতে, বকেয়া অর্থের পরিমাণ শত কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।
তবে সাম্প্রতিক তৎপরতায় প্রায় ১০ কোটি টাকা আদায় সম্ভব হয়েছে।

কমলগঞ্জ উপজেলার আলীনগর চা বাগানের শ্রমিক সত্য নারায়ন জানান, নিয়ম অনুযায়ী অবসরের ৩ মাসের মধ্যে টাকা পাওয়ার কথা থাকলেও তাকে ১ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। চা শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি পঙ্কজ কন্দ বলেন, স্বল্প আয়ের শ্রমিকদের জন্য এই সঞ্চয়টুকুই শেষ ভরসা। সেটিও অনিশ্চিত হয়ে পড়লে বড় ধরনের জীবন সংকট তৈরি হবে চা শ্রমিকদের।

বাগান মালিকদের পক্ষ থেকে সাতগাঁও চা বাগানের ব্যবস্থাপক সিদ্দিকুর রহমান জানান, দীর্ঘদিনের লোকসান এবং উৎপাদন খরচের তুলনায় চায়ের দাম কম হওয়ায় এই জটিলতা তৈরি হয়েছে। তবে দ্রুত বকেয়া পরিশোধের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

বিভাগীয় শ্রম দপ্তরের উপ-পরিচালক (নিয়ন্ত্রক প্রভিডেন্ট) মহব্বত হোসাইন জানান, বকেয়া আদায়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন। তিনি বলেন, আমরা ইতিমধ্যে ৬টি বাগানের বিরুদ্ধে শ্রম আইনে মামলা করেছি এবং ৫৮টি বাগানকে বকেয়া পরিশোধের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। ট্রাস্টি বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নিয়মিত পরিদর্শন ও তদারকি চলছে।

শ্রম অধিদপ্তরের অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে গঠিত একটি ট্রাস্টি বোর্ড এই তহবিল পরিচালনা করেন। শ্রমিকদের দাবি, তদারকি আরও জোরদার করে প্রতি মাসের টাকা প্রতি মাসেই জমা নিশ্চিত করা হোক, যাতে তাদের শেষ বয়সের সম্বলটুকু বেহেস্তে না গিয়ে রক্ষা পায়।

মন্তব্য করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ ভাতা পেল ৪৬৬৮ জন চা-শ্রমিক

লালমনিরহাটে পুকুর থেকে বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার

বিএনপিতে ‘চমক’, নিলেন শ্বশুরবাড়ি থেকে মনোনয়ন

পল্টনে ১১ দলীয় জোটের সমাবেশ ও গণমিছিল

এনসিপিতে যোগ দেওয়া নিয়ে এবার মুখ খুললেন রুমিন ফারহানা

‘নিজের অস্ত্রের গুলিতে’ প্রাণ হারালো পুলিশ সদস্য

এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু ২ জুলাই

আবারও হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা ইরানের

যাত্রাবাড়ীতে সড়ক দুর্ঘটনায় বৃদ্ধা নিহত

নিউমার্কেটে তাবলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ২

১০

মধুর ক্যান্টিনে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি ইনসাফের আন্দোলনের

১১

মধুর ক্যান্টিনে মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে জেডিপির আলোচনা সভা

১২

ইরান সমর্থনে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিক্ষোভ সমাবেশ

১৩

শাহবাগে মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের দাবিতে সমাবেশ

১৪

সংবিধান শুধুমাত্র একটি আইনি দলিল নয়, বরং একটি রাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও সামাজিক চেতনার প্রতিফলন

১৫

কেরানীগঞ্জে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় কিশোর নিহত, ঢামেক মর্গে মরদেহ

১৬

নরসিংদীতে সড়ক দুর্ঘটনায় বৃদ্ধ নিহত, মরদেহ ঢামেকের মর্গে

১৭

রাজধানীর শিল্পকলার সামনে দুর্ঘটনা, আহত ২

১৮

মজুরি ও রেশন বন্ধে মানবেতর জীবন-যাপন চা-শ্রমিকদের

১৯

মারা গেলেন বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান

২০