
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বাঁশ কাটাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে রনি (৩২) নামে এক যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাঁর ডান হাত বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাঁর বাড়িঘরে হামলা, ১৩টি মহিষ ও প্রায় ৩০ মণ পাট লুট এবং ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। পরে অভিযান চালিয়ে লুটের অভিযোগ থাকা ১৩টি মহিষ ও দুই গাড়ি পাট উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত রনি ওই গ্রামের মৃত বিশু লাঠারের ছেলে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিন আগে জামালপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় বিজিবির বসার মাচা তৈরির জন্য স্থানীয়দের কাছে বাঁশ চাওয়া হয়। এ সময় রনির অনুমতি ছাড়াই তাঁর বাঁশঝাড় থেকে চার-পাঁচটি বাঁশ কেটে বিজিবিকে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সুমন নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে রনির বিরোধ সৃষ্টি হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওই বিরোধের জের ধরে শুক্রবার সকালে মহিষের জন্য মাঠ থেকে ঘাস কেটে বাড়ি ফেরার পথে গ্রামের কবরস্থানের পাশে রনিকে একা পেয়ে হামলা চালানো হয়। নাজিরের ছেলে সুমন (২৬) নেতৃত্বে শামসুল মণ্ডলের ছেলে উজির (৪৫), উজিরের ছেলে রুমন (২২), রব কুলের ছেলে কামু (৩০), জাম্বু (২৫), রঞ্জিত মণ্ডলের ছেলে লস্কর (৩৫), শহিদুলের ছেলে মন্টু (২৬)সহ আরও কয়েকজন দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাঁর ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ সময় হামলা প্রতিরোধ করতে গেলে রনির ডান হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। শরীরের বিভিন্ন স্থানেও গুরুতর জখম হন তিনি। পরে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে কুষ্টিয়ায় পাঠানো হয়। অবস্থার অবনতি হলে পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
এদিকে, রনিকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য পরিবারের সদস্যরা ব্যস্ত হয়ে পড়লে তাঁর বাড়িতে লুটপাট চালানো হয় বলে অভিযোগ করেছে পরিবার। এ সময় বাড়িতে থাকা ১৩টি মহিষ ও দুই গাড়িতে থাকা প্রায় ৩০ মণ পাট নিয়ে যাওয়া হয়। পাশাপাশি তাঁর ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।
খবর পেয়ে দৌলতপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে স্থানীয় নিয়ামতের বাড়ি থেকে লুটের অভিযোগ থাকা ১৩টি মহিষ উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া পাচারের সময় দুই গাড়ি পাটও উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, বাঁশ কাটাকে কেন্দ্র করে রনি নামে একজনকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লুটের অভিযোগ থাকা ১৩টি মহিষ ও দুই গাড়ি পাট উদ্ধার করেছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে। দ্রুত তাঁদের আইনের আওতায় আনা হবে।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, বিজিবির জন্য বাঁশ কাটার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। বিষয়টি জেনে পরে জানাবেন।
ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গুরুতর আহত রনির চিকিৎসা চলছে। হামলা, লুটপাট ও মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়ার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
মন্তব্য করুন