
আজ ২১ রমজান, ইসলামের চতুর্থ খলিফা, নবী মুহাম্মাদ (সা.)-এর চাচাতো ভাই ও জামাতা হযরত আলী (রা.)–এর শাহাদত দিবস। এ উপলক্ষে বিশ্বজুড়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা গভীর শ্রদ্ধাভরে তার জীবন, ত্যাগ ও ন্যায়বিচারের আদর্শকে স্মরণ করছেন।
তিনি ছিলেন প্রথম পুরুষ মুসলমান, সাহসী যোদ্ধা এবং প্রজ্ঞাবান শাসক। তিনি ৬৫৬ থেকে ৬৬১ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত খিলাফত পরিচালনা করেন এবং ৪০ হিজরি (৬৬১ খ্রি.) রমজান মাসে কুফার মসজিদে ইবাদতরত অবস্থায় ইবনে মুলজিম নামক এক খারেজীর তরবারির আঘাতে শাহাদাত বরণ করেন। নাজাফ (ইরাক) নামক স্থানে তাঁকে সমাহিত করা হয়।
এই সপ্তাহে ইরাকের নাজাফ শহরে অবস্থিত হযরত আলী (আ.)–এর মাজারে লাখো ধর্মপ্রাণ মানুষের ঢল নেমেছে। বিশেষ করে রমজানের ২১ তারিখ ঘিরে এই শহরে মুসল্লিদের উপস্থিতি ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়।
ইতিহাস অনুযায়ী, কুফা মসজিদে ফজরের নামাজ আদায়ের সময় বিষমাখা তরবারি দিয়ে হযরত আলী (রা.)–এর ওপর হামলা চালায় ঘাতক আবদুর রহমান ইবনে মুলজিম। ১৯ রমজানের সেই হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন এবং দুই দিন পর ২১ রমজানে শাহাদত বরণ করেন।
হযরত আলী (রা.)–এর শাহাদত দিবস উপলক্ষে ইরান, ইরাক, পাকিস্তানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শোকসভা, মজলিস ও শোক মিছিলের আয়োজন করা হয়েছে। সোমবার (১৯ রমজান) থেকে শুরু হওয়া এসব কর্মসূচিতে বিপুল সংখ্যক মুসলমান অংশ নিচ্ছেন।
মুসলিমদের বিশ্বাস অনুযায়ী, হযরত আলী (রা.)–এর জন্মও ছিল এক অলৌকিক ঘটনা। তার জন্ম হয়েছিল ইসলামের পবিত্রতম স্থান কাবা শরিফের ভেতরে। ফলে তার জন্মস্থান ও শাহাদতস্থল—দুই স্থানই আজ মুসলমানদের কাছে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার প্রতীক হয়ে আছে।
ইতিহাসে হযরত আলী (রা.) পাঁচ বছর খিলাফতের দায়িত্ব পালন করেন, যা ৬৬১ খ্রিস্টাব্দে তার শাহাদাতের মাধ্যমে শেষ হয়। এই সময় তিনি ন্যায়বিচার, সুশাসন এবং মানবিক নেতৃত্বের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। একজন যোদ্ধা, প্রশাসক, বিচারক ও জ্ঞানী আলেম হিসেবে তার বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্ব ইসলামী ইতিহাসে বিশেষ মর্যাদা পেয়েছে।
ইসলামী ইতিহাসে হযরত আলী (রা.) বিভিন্ন সম্মানসূচক উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে ‘আসাদুল্লাহ’ (আল্লাহর সিংহ), ‘হায়দার’, ‘বাবুল মদিনাতুল ইলম’ (জ্ঞাননগরীর দরজা) এবং ‘ফাতেহে খায়বার’।
ইসলামের ইতিহাসে হযরত আলী (রা.)–এর জীবন ও আদর্শ আজও নেতৃত্ব, ন্যায়বিচার ও মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়। তার শাহাদত দিবস মুসলিম বিশ্বকে সেই আদর্শের কথাই আবারও স্মরণ করিয়ে দেয়।
মন্তব্য করুন