
সুনির্দিষ্ট তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১৩, সিপিএসসি, রংপুর এবং র্যাব-১০, সিপিসি-২, মুন্সীগঞ্জ এর একটি যৌথ দল ইং ১১/০৬/২০২৬ তারিখ বিকাল আনুমানিক ০৩.৩৫ ঘটিকার মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং থানাধীন বেজগাঁও গ্রামের আব্দুর রবের ভাড়াটিয়া বাসায় অভিযান চালায়। অভিযানে লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ থানার অপহরণ মামলার প্রধান আসামি মোঃ রাকিবুল ইসলাম (২২) গ্রেফতার করে এবং অপহৃত ছাত্রীকে উদ্ধার করে। মোঃ রাকিবুল ইসলাম রংপুরের গংগাচড়া থানার চরচিলাখাল এলাকার বাদশা মিয়ার ছেলে।
অপহৃত ছাত্রীর বাবার দায়েরকৃত এজাহার থেকে জানা যায় যে, তার মেয়ে কালীগঞ্জ থানাধীন সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এ্যান্ড কলেজের ৯ম শ্রেণীর ছাত্রী। বিদ্যালয়ে যাওয়া আসার সময় রাস্তায় মোঃ রাকিবুল ইসলাম (২২) বিভিন্ন সময়ে বিবাহের প্রলোভন ও প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে উত্যক্ত করে আসছিলো। অপহৃত ছাত্রীর বাবা রকিবুল তার মেয়েকে উক্তত্য করা থেকে, বিরত থাকার জন্য বলার ফলে, রাকিবুল আরো ক্ষিপ্ত হয়ে গত ০৬/০৫/২০২৬ তারিখ সকাল ০৮.০০ ঘটিকায় নির্যাতিত ছাত্রী নিজ বাড়ি হতে বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে কালীগঞ্জ থানাধীন বৈরাতী মৌজাস্থ মিলন বাজার থেকে রাকিবুল ও তার সহযোগী ৩/৪ জন অজ্ঞাতনামা বন্ধুদের সহায়তায় নির্যাতিত ছাত্রীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে জোরপূর্বক অপহরণ করে অজ্ঞাতনামা স্থানে নিয়ে যায়।
নির্যাতিত ছাত্রীর বাবা তার মেয়েকে উদ্ধারের জন্য ধৃত আসামির বাড়ীতে গেলে রাকিবুল এবং তার সহযোগীরা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। পরবর্তীতে নির্যাতিত ছাত্রীর পিতা বাদী হয়ে লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ থানায় আসামিগণের বিরুদ্ধে গত ০৫/০৬/২০২৬ তারিখ ধারাঃ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩) এর ৭/৩০ তৎসহ ৫০৬ পেনাল কোড ১৮৬০ মূলে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন । যার মামলা নং-০৬।
র্যাব জানায় ঘটনার পর থেকেই গ্রেফতার রাকিবুল ও তান সহযোগীরা চতুরতার সাথে আত্মগোপনে ছিলো। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় আসামিদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি র্যাব গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে এবং নির্যাতিত ছাত্রীকে উদ্ধার ও আসামি গ্রেফতারে সচেষ্ট হয়। পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রমের জন্য নির্যাতিত ছাত্রী ও আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন