
বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারির মরদেহ দাফন ও রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদানে বাধা দেওয়ার অভিযোগের প্রতিবাদে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর কুশপুত্তলিকা দাহ করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) একদল শিক্ষার্থী।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত সাড়ে আটটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করেন তাঁরা। পরে সেখানে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা।
কর্মসূচিতে ১০ থেকে ১২ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। কুশপুত্তলিকায় ‘পাকিস্তানের দালাল’ ও ‘যুদ্ধাপরাধী দেইল্যা রাজাকার’ লেখা ছিল। বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধা দেওয়া এবং তাঁকে যথাযথভাবে গার্ড অব অনার না দেওয়ার অভিযোগ তুলে তাঁরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
কর্মসূচির সঞ্চালক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আবু রায়হান কবির রাসেল বলেন, ‘রাজাকার একটি চেতনা, যারা বাংলাদেশ রাষ্ট্রের ভূখণ্ডে থেকেও পাকিস্তানপন্থী অবস্থান টিকিয়ে রাখতে চায়। নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পরও একজন মুক্তিযোদ্ধাকে লুকিয়ে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়েছে। সাজাপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী এ টি এম আজহারকে সংসদে বসানো হয়েছে। এর চেয়ে লজ্জাকর আর কিছু হতে পারে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজাকারদের ছবি প্রদর্শিত হয়েছিল। তখন মনে করেছিলাম, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নির্বাচিত নয় বলেই হয়তো এমন ঘটনা ঘটছে। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হিসেবে পরিচিত নির্বাচিত সরকারের আমলেও একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে লুকিয়ে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়েছে। সরকারের এমন আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানাই।’
সমাবেশে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের জাবি শাখার সংগঠক সোহাগী সামিয়া অভিযোগ করেন, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ার কারণে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারিকে যথাযথভাবে গার্ড অব অনার দিয়ে স্বাভাবিক ও সুষ্ঠুভাবে দাফন করতে দেওয়া হয়নি। এ ঘটনার পেছনে কারা বাধা সৃষ্টি করেছে, তা চিহ্নিত করার দাবি জানান তিনি।
সোহাগী সামিয়া বলেন, ‘তারা ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করেছে। এর বড় প্রমাণ, একজন মুসলমানের দাফনপ্রক্রিয়াও ইসলামি রীতি অনুযায়ী সম্পন্ন হতে দেয়নি।’
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, ‘যারা ২০২৪ সালের কথা বলে ১৯৭১ সালকে নস্যাৎ করতে চান, তাঁদের চিনে রাখা দরকার। যারা ১৯৭১-কে ধারণ করতে পারেন না, তাঁরা কোনো দিন ২০২৪-কেও ধারণ করতে পারবেন না। সরকার জনগণের হলে ২০২৪ ও ১৯৭১ সালের চেতনাকে ধারণ করত। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফনে উচ্ছৃঙ্খলভাবে বাধা দেওয়া হলে আইনগতভাবে তা প্রতিহত করত। কিন্তু আইন আজ মব সৃষ্টিকারী ও উগ্রপন্থীদের হাতে বন্দী।’
ভবিষ্যতে মুক্তিযুদ্ধের ওপর কোনো আঘাত এলে অল্প কয়েকজন নয়, হাজারো মানুষ প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন বলেও হুঁশিয়ারি দেন এই শিক্ষার্থী।
মন্তব্য করুন