
দীর্ঘ ১৬ বছর অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষে উঠেছে স্পেন। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত রোমাঞ্চকর ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে করা একমাত্র গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে শিরোপা জিতে নেয় লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।
নির্ধারিত সময়ে দুই দলই গোলের দেখা না পেলেও অতিরিক্ত সময়ের ১০৬তম মিনিটে দুর্দান্ত এক আক্রমণ থেকে জয়সূচক গোল করেন ফেরান তোরেস। তার সেই গোলেই উৎসবে মেতে ওঠে স্পেন শিবির।
টুর্নামেন্টের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার ‘গোল্ডেন বল’ জিতেছেন স্পেনের মিডফিল্ডার রদ্রি। পুরো আসরে ৮ ম্যাচে ৭২৬ মিনিট মাঠে থেকে অসাধারণ নৈপুণ্য দেখান তিনি। টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ৬৯২টি সফল পাস দিয়েছেন এই মিডফিল্ডার, যার সফলতার হার ছিল ৯৪ শতাংশ। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ১৩টি ট্যাকল জিতে দলকে এগিয়ে নিতে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি।
ফাইনালের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন ম্যাচের একমাত্র গোলদাতা ফেরান তোরেস। তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সই স্পেনকে এনে দিয়েছে বিশ্বসেরার মুকুট।
এবারের বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ১০ গোল করে ‘গোল্ডেন বুট’ জিতেছেন ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে তিনি ছিলেন সবচেয়ে সফল গোলদাতা।
সেরা গোলরক্ষকের স্বীকৃতি ‘গোল্ডেন গ্লাভ’ উঠেছে স্পেনের উনাই সিমনের হাতে। পুরো আসরে মাত্র একটি গোল হজম করেছেন তিনি এবং সাতটি ম্যাচে ক্লিনশিট ধরে রাখার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। টুর্নামেন্টে প্রায় ৫৫০ মিনিট গোল না খাওয়ার অনন্য রেকর্ডও গড়েছেন এই স্প্যানিশ গোলকিপার।
অন্যদিকে, ‘সেরা উদীয়মান খেলোয়াড়’ নির্বাচিত হয়েছেন স্পেনের তরুণ ডিফেন্ডার পাউ কুবারসি। ১৯ বছর বয়সী এই ফুটবলারের উপস্থিতিতে প্রতিপক্ষ দল মাত্র একটি গোল করতে সক্ষম হয়েছে। পুরো আসরে তিনি ৩৩ বার বিপজ্জনক পরিস্থিতি থেকে দলকে রক্ষা করেছেন।
এ ছাড়া টুর্নামেন্টে সবচেয়ে শৃঙ্খলাপূর্ণ দল হিসেবে ‘ফেয়ার প্লে অ্যাওয়ার্ড’ জিতেছে নেদারল্যান্ডস।
২০২৬ বিশ্বকাপের পুরস্কারজয়ীরা—
১। ফাইনালের সেরা খেলোয়াড়: ফেরান তোরেস
২। গোল্ডেন বল (টুর্নামেন্টসেরা): রদ্রি
৩। গোল্ডেন বুট (সর্বোচ্চ গোলদাতা): কিলিয়ান এমবাপ্পে (১০ গোল)
৪। গোল্ডেন গ্লাভ (সেরা গোলকিপার): উনাই সিমন
৫। সেরা উদীয়মান খেলোয়াড়: পাউ কুবারসি
৬। ফেয়ার প্লে অ্যাওয়ার্ড: নেদারল্যান্ডস
মন্তব্য করুন