
পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকায় জরুরি স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন এবং দুর্ঘটনা ও জরুরি পরিস্থিতিতে প্রাণহানির ঝুঁকি কমাতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গুইমারা রিজিয়নের সিন্দুকছড়ি জোনের উদ্যোগে ১০ দিনব্যাপী চিকিৎসা ও নার্সিং প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ৯টায় গুইমারা সরকারি কলেজের হলরুমে উপজেলার ১৫ জন শিক্ষিত তরুণীকে নিয়ে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়।
পাহাড়ের প্রত্যন্ত পাড়াগুলো থেকে জরুরি মুহূর্তে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানো অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। এ কারণে স্থানীয় পর্যায়ে প্রাথমিক চিকিৎসা ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে।
খাগড়াছড়ি সদর ও মাটিরাঙ্গা থেকে আগত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে-কলমে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
প্রশিক্ষণে গর্ভবতী নারী ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা, পেটব্যথা, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ, জখমের প্রাথমিক চিকিৎসা, হাড় ভাঙা ও শারীরিক আঘাতের জরুরি পরিচর্যা, সাপের কামড়, অগ্নিকাণ্ড ও পানিতে ডুবে যাওয়ার ঘটনায় জীবন রক্ষাকারী প্রাথমিক পদক্ষেপ, অচেতন রোগীর শ্বাস-প্রশ্বাস সচল রাখা এবং নিরাপদে হাসপাতালে স্থানান্তরের কৌশল শেখানো হচ্ছে।
সিন্দুকছড়ি জোনের ক্যাপ্টেন (আরএমও) এম এম আকিফ ইউসুফ নজীব জানান, ১০ দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত চলবে।
প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিদর্শন করেন সিন্দুকছড়ি জোন কমান্ডার লে. কর্ণেল কাজী নেহাত ফয়সল পিএসসি, জি। এ সময় তিনি বলেন, “গুইমারা উপজেলার দুর্গম এলাকায় তাৎক্ষণিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে এ প্রশিক্ষণ অত্যন্ত সময়োপযোগী। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্বেচ্ছাসেবীরা স্থানীয় পর্যায়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে সক্ষম হলে দুর্ঘটনা ও জরুরি পরিস্থিতিতে প্রাণহানির ঝুঁকি কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।”
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবী তৈরি হবে, যারা দুর্গম এলাকায় জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রাথমিক সহায়তা দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবেন।
মন্তব্য করুন