
বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের প্রধান সহকারী এস এম কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে বদলির আদেশ উপেক্ষা করে আগের কর্মস্থলেই বহাল থাকার অভিযোগ উঠেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে তার বদলির আদেশ জারি হওয়ার এক মাস পেরিয়ে গেলেও তিনি এখনো নতুন কর্মস্থলে যোগদান করেননি।
জানা গেছে, বদলির আদেশে তিন কর্মদিবসের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে ছাড়পত্র গ্রহণ করে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশনা ছিল। তবে অদৃশ্য কারণে সেই নির্দেশনা বাস্তবায়ন হয়নি। এতে হাসপাতালের প্রশাসনিক কার্যক্রমে জটিলতা সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মহলে অসন্তোষ ও নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, গত ১৪ মে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমী স্বাক্ষরিত এক আদেশে দুই কর্মচারীর বদলি ও পদায়ন করা হয়।
আদেশে বলা হয়, ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শূন্য পদে শজিমেক হাসপাতালের প্রধান সহকারী এস এম কামরুজ্জামানকে বদলি করা হয়েছে। অন্যদিকে, শজিমেক হাসপাতালের উচ্চমান সহকারী শাহিন ইসলামকে (নিজ বেতনে) একই হাসপাতালের প্রধান সহকারী পদে কামরুজ্জামানের স্থলে পদায়ন করা হয়েছে।
অধিদপ্তরের প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ ছিল, আদেশ জারির ৩ (তিন) কর্মদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের ছাড়পত্র গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় চতুর্থ কর্মদিবস থেকে তারা সরাসরি অব্যাহতি পেয়েছেন বলে গণ্য হবে। তবে এক মাস পেরিয়ে গেলেও এই আদেশ আলোর মুখ দেখেনি।
পদায়নপ্রাপ্ত কর্মচারী শাহিন ইসলাম বলেন, ২০২০ সালেও এই পদে আমার পদায়ন হয়েছিল। কিন্তু রাজনৈতিক ট্যাগ লাগিয়ে তখন আমাকে যোগদান করতে দেওয়া হয়নি এবং চরম হেনস্তা করা হয়েছিল। এবারও বিধি অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বর্তমান কর্মকর্তার ধুনটে চলে যাওয়ার কথা, না হলে অটো রিলিজ হওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু অদৃশ্য কোনো শক্তির কারণে এখনো তা কার্যকর হচ্ছে না। আমার সঙ্গে আবারও আগের মতোই হেনস্তার পাঁয়তারা চলছে।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে শজিমেক হাসপাতালের বর্তমান প্রধান সহকারী এস এম কামরুজ্জামানের মোবাইলফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
শজিমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম নুরুল ইরফান বলেন, এটি একটি অফিসিয়াল বিষয়। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যের জন্য উপপরিচালক এর সঙ্গে কথা বলতে পারেন।
হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মনজুর মোর্শেদ বদলির আদেশ বাস্তবায়িত না হওয়ার পেছনে প্রশাসনিক তদন্তের কথা উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, গত ১৪ মে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে একটি বদলি আদেশ জারি হয়েছিল। কিন্তু আদেশটি আসার পরপরই সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বেশ কিছু প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিলাম।
উপপরিচালক আরও জানান, ইতোমধ্যে তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে এবং সেখানে অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেছে। আমরা তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনসহ সম্পূর্ণ বিষয়টি বিস্তারিত জানিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কার্যালয়ে চিঠি পাঠিয়েছি। একই সঙ্গে করণীয় জানতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফোনেও যোগাযোগ করা হয়েছে। সেখান থেকে যে নির্দেশনা আসবে, সেই আলোকেই পরবর্তী চূড়ান্ত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্পষ্ট নির্দেশনার পরও বদলি আদেশ কার্যকর না হওয়া এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান না করার বিষয়টিকে প্রশাসনের চেইন অব কমান্ডের লঙ্ঘন হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা দ্রুত এ জটিলতার অবসান ঘটিয়ে অধিদপ্তরের আদেশ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন