
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার পিয়ারপুর এলাকায় উচ্চমূল্যের নিরাপদ সবজি উৎপাদন সম্প্রসারণে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রদর্শনী মাঠ দিবস। বুধবার (১০ জুন) বিকেলে “যশোর অঞ্চলে টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্প”-এর আওতায় আয়োজিত এ মাঠ দিবসে প্রধান আকর্ষণ ছিল উচ্চ ফলনশীল ও পুষ্টিসমৃদ্ধ মুখী কচুর ‘মেহেরচন্ডি’ জাতের প্রদর্শনী।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, দৌলতপুরের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ ড. মো. শওকত হোসেন ভূঁইয়া। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দৌলতপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রেহানা পারভীন।
মাঠ দিবসে বক্তারা বলেন, নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য উৎপাদনের পাশাপাশি কৃষকের আয় বৃদ্ধি করতে উচ্চমূল্যের সবজি চাষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে মেহেরচন্ডি জাতের মুখী কচু তুলনামূলক কম খরচে চাষ করা সম্ভব এবং বাজারে এর চাহিদাও বেশ ভালো।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মো. শওকত হোসেন ভূঁইয়া বলেন, নিরাপদ সবজি উৎপাদন বর্তমান সময়ের অন্যতম প্রয়োজন। মেহেরচন্ডি জাতের মুখী কচু কৃষকদের জন্য একটি সম্ভাবনাময় ফসল। অল্প জমিতে এর চাষ করে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আয় করা সম্ভব, যা কৃষকের আর্থিক অবস্থার উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি আরও বলেন, টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্পের মাধ্যমে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রযুক্তি মাঠ পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ কমার পাশাপাশি কৃষকের লাভও বাড়বে।
অনুষ্ঠানে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা কৃষকদের পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে রোগ-পোকা দমন, নিরাপদ সবজি উৎপাদন এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। পাশাপাশি প্রদর্শনী প্লট পরিদর্শন করে উপস্থিত কৃষকদের চাষাবাদ সংক্রান্ত নানা প্রশ্নের উত্তর দেন তারা।
মাঠ দিবসে অংশ নেওয়া কৃষকরা জানান, প্রদর্শনীতে মেহেরচন্ডি জাতের মুখী কচুর ফলন ও গুণগত মান দেখে তারা উৎসাহিত হয়েছেন। আগামী মৌসুমে এ জাতের চাষ সম্প্রসারণের আগ্রহও প্রকাশ করেন অনেক কৃষক।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় কৃষক-কৃষাণী, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা এবং কৃষি বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। কৃষকদের অংশগ্রহণে মাঠ দিবসটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
মন্তব্য করুন