
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় দাখিল পরীক্ষার একটি কেন্দ্রে উত্তরপত্র লিখে দেওয়ার অভিযোগে তিন শিক্ষককে আটক করেছে র্যাব। একই ঘটনায় এক পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বুধবার (২০ মে) দুপুরে চুয়ামল্লিকপাড়া রেজওয়ানুল উলুম দাখিল মাদ্রাসা পরীক্ষা কেন্দ্রে জীববিজ্ঞান বিষয়ের পরীক্ষা চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।
বহিষ্কৃত পরীক্ষার্থী মো. নাসিরুল্লাহ (১৬) মহিষকুন্ডি মুসলিম নগর দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের সুপারিনটেনডেন্ট মো. আব্দুল ওহাব বিশ্বাসের ছেলে বলে জানা গেছে।
আটক শিক্ষকরা হলেন মহিষকুন্ডি মুসলিম নগর দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক মো. বজলুর রহমান (৪৮), মো. নুরুল ইসলাম (৪৫) এবং মোছা. মাতোয়ারা খাতুন মায়া (৪০)। তারা সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিদর্শক ছিলেন না।
র্যাব সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রের বাইরে বসে উত্তরপত্র লিখে তা পরীক্ষার্থীর কাছে সরবরাহের সময় ওই তিন শিক্ষককে হাতেনাতে আটক করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে একটি চক্র এ ধরনের অনিয়মের সঙ্গে জড়িত।
জিজ্ঞাসাবাদে আটক শিক্ষকরা দাবি করেন, পরীক্ষার্থীর ভালো ফল নিশ্চিত করতে মহিষকুন্ডি মুসলিম নগর দাখিল মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট আব্দুল ওহাব বিশ্বাস তাদের এ কাজে বাধ্য করেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে তার সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। পরে সরাসরি যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
ঘটনার পর কয়েকজন স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি আটক শিক্ষকদের ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে পরীক্ষা কেন্দ্র এলাকায় কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
দৌলতপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শ্রী প্রদীপ কুমার দাস জানান, তদন্তে কেন্দ্রের বাইরে থেকে উত্তরপত্র লিখে এনে পরীক্ষায় জমা দেওয়ার সত্যতা পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আটক শিক্ষকরা বর্তমানে র্যাব হেফাজতে রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
মন্তব্য করুন