
দক্ষিণ আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর ব্যাপক মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। ধসে পড়া ভবনের নিচে জীবিতদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকলেও এখন পর্যন্ত অন্তত ২৫৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ২ হাজার ৭০০ মানুষ।
বুধবার (১২ আগস্ট) দেশটির ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়াদের সন্ধান করছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পশ্চিমাঞ্চলের ক্যালি, পেরেইরা ও চোকো অঞ্চল। দুর্গম চোকো এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র এখনও স্পষ্ট হয়নি।
স্থানীয় সময় সোমবার সকাল ৭টা ৩৪ মিনিটে পশ্চিম কলম্বিয়ায় ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। কলম্বিয়ার ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, চলতি শতাব্দীতে দেশটিতে আঘাত হানা ভূমিকম্পগুলোর মধ্যে এটিই সবচেয়ে শক্তিশালী। মূল কম্পনের পর দেশজুড়ে ৭০টির বেশি আফটারশক অনুভূত হয়েছে বলে জানা গেছে। আরও কম্পনের আশঙ্কায় সতর্ক রয়েছে কর্তৃপক্ষ।
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পে প্রায় ৫ হাজার বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি বেশ কয়েকটি ভবন পুরোপুরি ধসে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর বড় একটি অংশ আবাসিক হওয়ায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দেশটির তৃতীয় বৃহত্তম শহর ক্যালিতে পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ। স্থানীয় প্রশাসনের হিসাবে, শুধু এই শহরেই অন্তত ৯৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। ভূমিকম্পের আঘাতে প্রায় ৪৫টি ভবন আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে ধসে পড়েছে।
শহরের দক্ষিণাঞ্চলে একটি সাততলা আবাসিক ভবন সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে। উদ্ধারকারীদের ধারণা, ভবনটির ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রায় ২০ জন আটকা পড়ে থাকতে পারেন। জীবিতদের উদ্ধারে হাতুড়ি, কোদাল ও ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হচ্ছে। উদ্ধারকাজে পেশাদার দলগুলোর পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী অংশ নিচ্ছেন।
ধসে পড়া ভবনটির একটি অংশ পাশের একটি নার্সারি স্কুলের ওপর গিয়ে পড়ে। সেখানে প্রায় ১৭ জন শিশু আটকা পড়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে শিশুদের জীবিত উদ্ধারের আশায় উদ্ধারকারীরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ধ্বংসস্তূপ সরাচ্ছেন।
উদ্ধারকাজের সময় মাঝে মাঝে পুরো এলাকা নীরব করে ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে কোনো শব্দ বা জীবনের অস্তিত্বের সংকেত শোনার চেষ্টা করছেন উদ্ধারকারীরা। স্থানীয় বাসিন্দারাও মানবশৃঙ্খল তৈরি করে ধ্বংসাবশেষ সরাতে সহায়তা করছেন।
আন্তর্জাতিক উদ্ধার সংস্থাগুলো বলছে, ভূমিকম্প এমন একটি এলাকায় আঘাত করেছে, যেখানে আগে থেকেই নানা ধরনের সংকট রয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ হিসাব করতে সময় লাগছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য চিকিৎসা, আশ্রয় এবং শিক্ষা খাতে জরুরি সহায়তার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
উদ্ধার অভিযান চলমান থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র: আলজাজিরা
মন্তব্য করুন