
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহের জেরে ঘুমন্ত স্বামীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্ত্রী শিখা বেগম (৩০)কে আটক করেছে ভাঙ্গা থানা পুলিশ।
শনিবার (৭ আগস্ট) দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার নুরুল্লাগঞ্জ ইউনিয়নের পশ্চিম বাকপুরা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত মারুফ মাতুব্বর (৩৮) ওই এলাকার মৃত মোখছেদ মাতুব্বরের ছেলে। আটক শিখা বেগম সদরপুর উপজেলার শামসুর গ্রামের মৃত মানিক খানের মেয়ে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, রাতে মারুফ মাতুব্বর ঘুমিয়ে থাকার সময় তার স্ত্রী শিখা বেগম ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার শরীরের সংবেদনশীল স্থানে আঘাত করেন। মারুফের চিৎকার শুনে তার বড় ভাই রেজাউল মাতুব্বর ছুটে এসে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করেন। প্রথমে তাকে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পুলিশ জানায়, মারুফ নারায়ণগঞ্জের একটি গার্মেন্টস কারখানায় চাকরি করেন। প্রতি বৃহস্পতিবার তিনি বাড়িতে আসতেন এবং শনিবার কর্মস্থলে ফিরে যেতেন। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে বিচার-সালিশও হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সেই বিরোধের জেরেই এ ঘটনা ঘটেছে।
খবর পেয়ে ভাঙ্গা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সেলিম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত শিখা বেগমকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন।
সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মমিনুর রহমান সরকার জানান, আহত ব্যক্তির শরীরের সংবেদনশীল অঙ্গে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অভিযুক্ত শিখা বেগমকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
মন্তব্য করুন