
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) ও বাংলাদেশ হাই কমিশনের সাবেক ‘মিনিস্টার পাবলিক ডিপ্লোমেসি’ মোঃ সাব্বির বিন শামস সুমনকে (৫৭) লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সুমনের (সুমন খান) বাড়ী লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের সময় দগ্ধ হয়ে ৬ ছাত্র হত্যা মামলায় আসামি হিসেবে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
রবিবার (১৭ মে) বিকাল ৩টায় সদর থানা পুলিশ লালমনিরহাট সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত-১ এ সোপর্দ করলে বিজ্ঞ আদালত জামিন আবেদনের শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাাঠানোর আদেশ দেন। পরে কোর্ট পুলিশ তাঁকে লালমনিরহাট কারাগারে প্রেরণ করেন।
পুলিশ ও পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (১৬ মে) জেলার পাটগ্রাম উপজেলার বহুল আলোচিত দহগ্রাম ইউনিয়নের বঙ্গেরবাড়ী বাজার থেকে সাবেক ডিজি সাব্বির বিন শামস সুমনকে আটক করে থানা পুলিশ। পরে পাটগ্রাম থানা পুলিশ একটি সাধারণ ডায়েরি লিপিবদ্ধ করে অধিকতর তদন্তের প্রয়োজনে লালমনিরহাট ডিবি পুলিশের নিকট তাঁকে হস্তান্তর করে। রাতেই ডিবি পুলিশ তাঁকে লালমনিরহাট সদর থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করে।
২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সুমন খাঁনের বিলাসবহুল বাড়ি লুটপাট, অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ৬ ছয়জন কিশোর-যুবক দগ্ধ হয়ে মারা যায়। ওই হত্যার ঘটনায় বাড়ির মালিক আওয়ামী লীগ নেতা মোঃ সাখাওয়াত হোসেন সুমন খাঁনসহ ৩৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০-২৫ জনকে আসামি করে সদর থানায় ২৭মে ২০২৫ সালে একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার বাদী আরমান আরিফ (২৭) নিহত ‘ছাত্র-জনতা’ আন্দোলনে নিহতের সহযোদ্ধা দাবী করে এই মামলাটি দায়ের করেন।
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, মোঃ সাব্বির বিন শামস সুমন (৬০) রাজধানী ঢাকার মোহাম্মদপুর তারাকুঞ্জ এলাকার বাসিন্দা। তিনি লালমনিরহাট সদর উপজেলার বাহাদুর মোড় এলাকার মোঃ সামসুল হুদা ওরফে মন্টু বক্সীর ছেলে। তিনি আওয়ামী লীগের গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিআরআইয়ের নির্বাহী পরিচালক পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।
পাটগ্রাম থানার ওসি মোঃ নাজমুল হক জানান শনিবার (১৬ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক ডিজি সাব্বির বিন শামস সুমনকে দহগ্রামের বঙ্গেরবাড়ী বাজারে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করার সময় তাঁকে আটক করা হয়। তিনি আওয়ামী লীগের গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিআরআইয়ের নির্বাহী পরিচালক পদেও কর্মরত ছিলেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘মোঃ সাব্বির বিন শামস সুমনের কাছ থেকে বাংলাদেশি দুইটি লাল পাসপোর্টসহ ৭টি পাসপোর্ট, একটি আন্তর্জাতিক ড্রাইভিং লাইসেন্স ও জাতীয় পরিচয়পত্র উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ভারত থেকে অবৈধভাবে দেশে অনুপ্রবেশ করার কথা স্বীকার করেছেন। অধিকতর তদন্তের জন্য তাঁকে লালমনিরহাট ডিবি পুলিশের হস্তান্তর করা হয়েছে।’
লালমনিরহাট সদর থানার ওসি সাদ আহম্মেদ জানান, পাটগ্রাম থানার জিডি মুলে আটক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক ডিজি মোঃ সাব্বির বিন শামস সুমনকে লালমনিরহাট ডিবি পুলিশ শনিবার রাতেই সদর থানায় হস্তান্তর করে। লালমনিরহাট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্ত্বরের সুমন খানের বাড়ী লুটপাট, অগ্নিসংযোগের সময় দগ্ধ হয়ে ৬জনের মৃত্যুর ঘটনায় সদর থানার জিআর ৩০১ নম্বর মামলার তদন্তে প্রাপ্ত আসামি হিসেবে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে রবিবার বিকালে লালমনিরহাট বিজ্ঞ আদালতে তাঁকে সোপর্দ করা হয়েছে।’
জানতে চাইলে সাব্বির বিন শামস সুমন বলেন, ২০২০ সালের আগষ্ট মাসে আমি সিআরআই থেকে পদত্যাগ করেছি। ২০২১ সালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডিজি হিসেবে চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগ পাই। প্রায় সাত মাস পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কাজ করার পর ওই বছরে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ হাই কমিশনে ‘মিনিস্টার পাবলিক ডিপ্লোমেসি’ পদে পাঠানো হয়। আমি ২০২৩ সালে মিনিস্টার পাবলিক ডিপ্লোমেসি পদ থেকে পদত্যাগ করেছি।’
তিনি অপর এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন, আমার নামে দুর্নীতি দমন কমিশনের একটি মামলা চলমান রয়েছে। কিন্তু এখনও সেই মামলার চার্জশীট দেয়া হয়নি। এছাড়া আর কোনো মামলা ছিল না। পুলিশ তাকে কোথায় থেকে আটক করেছে, তা তিনি জানাতে চাননি।
সাব্বির বিন শামস সুমনের আইনজীবী অ্যাডঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত-১ এর বিজ্ঞ বিচারক মোঃ আলাউদ্দীন রবিবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে জামিন শুনানি করেন। আওয়ামী লীগ নেতা সাখাওয়াত হোসেন সুমন খানের বাড়ী লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের সময় দগ্ধ হয়ে ৬ জনের মৃত্যুর সময় আমার মোয়াক্কেল লালমনিরহাটে ছিলেন না। বর্তমানে তিনি একজন বয়স্ক ও ডায়াবেটিস সহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত রোগী। এসব বিষয় তুলে ধরে বিজ্ঞ আদালতে জামিন প্রার্থনা করেছি। কিন্তু আমরা আদালতে ন্যায় বিচার পাইনি। আমরা উচ্চ আদালতে যাবো।’
মন্তব্য করুন