
না ফেরার দেশে চলে গেলেন একাত্তরের বীর সেনানী, মুক্তিযোদ্ধা, চট্টগ্রামের মিরসরাই আসনের (চট্টগ্রাম-১) সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন, মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।
আজ বুধবার (১৩ মে) সকাল ১০টায় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। মোশাররফ হোসেনের বড় ছেলে সাবেদুর রহমান মৃত্যুর বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
সাবেদুর রহমান জানান, শারীরিক নানা জটিলতার কারণে বেশ কিছুদিন ধরে তিনি রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে ছিলেন। আজ সকালে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার বাবার মৃত্যু হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়— মুক্তিযুদ্ধের প্রথম পর্যায়ে তার নেতৃত্বে থাকা মুক্তিযোদ্ধাদের দূরদর্শিতার কারণে বেঁচে গিয়েছিল চট্টগ্রাম শহরসহ দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের অসংখ্য মানুষের জীবন।
যুদ্ধের শুরুতেই ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ের স্থানীয় ছাত্র জনতাকে সংগঠিত করে শুভপুর ব্রিজে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। যেন পাকিস্তানি বাহিনী কোনোভাবেই কুমিল্লা কিংবা ঢাকা থেকে শুভপুর ব্রিজ হয়ে চট্টগ্রামে প্রবেশ করতে না পারে এবং পরবর্তী ব্রীজটি ধ্বংস করে দিলে পুরো চট্টগ্রাম হানাদার বাহিনীর বর্বরতা থেকে রক্ষা পায়।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রকৌশলবিদ্যায় পড়াশোনা করা মোশাররফ হোসেন একাধারে রাজনীতিবিদ, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও সফল শিল্পপতি ছিলেন। মিরসরাই আসন থেকে আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) মনোনীত প্রার্থী হিসেবে একাধিকবার সংসদ সদস্য হয়েছিলেন তিনি। দলে সর্বশেষ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন বর্ষীয়ান এই নেতা।
২০২২ সালের ৭ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টনে বিএনপি কার্যালয়ে হামলা ও বিএনপি কর্মী মকবুল হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ২০২৪ সালের ২৭ অক্টোবর রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে মোশাররফ হোসেনকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। পরে আরও বেশ কিছু মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। কারাগারে থাকা অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়লে ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। ২০২৫ সালের ১৪ আগস্ট সব মামলায় জামিন পেয়ে কারাগার থেকে বেরিয়ে আসেন তিনি। এরপর থেকে শ্বাসতন্ত্রের জটিলতাসহ নানা শারীরিক অসুস্থতার কারণে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন।
মন্তব্য করুন