সর্বশেষ
||মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত: আটকে পড়া বাংলাদেশিদের ফেরাতে দুবাইয়ে বিশেষ ফ্লাইট||ঈদ যাত্রায় আন্তঃনগর ট্রেনের দ্বিতীয় দিনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু||ঝুঁকির মধ্যে বিচারকার্য: দৌলতপুরে জরাজীর্ণ ভবনে চলছে সিনিয়র সহকারী জজ আদালত||সাংসদ নাসের রহমানের সাথে ভারতের সহকারী হাইকমিশনারের বৈঠক||এএফসি নারী এশিয়ান কাপ মুগ্ধতা ছড়িয়েও পারলো না বাংলাদেশ||হাবিপ্রবি’র জাতীয়তাবাদী কর্মচারী পরিষদের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত||কুয়েতে মার্কিন কনস্যুলেটে হামলা: যা জানালো দেশটি||ডিসিকে ফোনে দেখে নেওয়ার হুমকি, পরদিন ঠিকই ডিসি প্রত্যাহার||কুষ্টিয়ায় ডিসি ইস্যু: আন্দোলন, মানববন্ধন ও প্রশ্নের মুখে রাজনীতি||সড়ক লাগানো অভিনন্দন বিলবোর্ড খোলার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
Rstia Sairat Safa
৪ মার্চ ২০২৬, ৭:৫৫ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক: প্রতিযোগিতা নয়, সহযোগিতাই ভবিষ্যতের পথ

এলিন মাহবুব, সাবেক শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় : আন্তর্জাতিক সম্পর্ক আজ আর শুধু সীমান্ত, যুদ্ধ বা কূটনৈতিক বৈঠকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই—এটি এখন অর্থনীতি, প্রযুক্তি, জলবায়ু, অভিবাসন, তথ্যপ্রবাহ ও মানবাধিকারসহ জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে সরাসরি প্রভাব ফেলে। একবিংশ শতাব্দীর বিশ্বায়িত বাস্তবতায় কোনো দেশ একা এগিয়ে যেতে পারে না; পারস্পরিক নির্ভরতা এখন অনিবার্য সত্য।

বর্তমানে বিশ্বরাজনীতিতে ক্ষমতার ভারসাম্য পরিবর্তন হচ্ছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা, অন্যদিকে চীন এবং উদীয়মান শক্তিগুলো—এই প্রতিযোগিতামূলক বিন্যাস বহু ক্ষেত্রে উত্তেজনা সৃষ্টি করছে। তবে একই সঙ্গে বাণিজ্য, প্রযুক্তি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো ইস্যুতে সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তাও ক্রমেই বাড়ছে। অর্থাৎ প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও সহযোগিতা—দুটিই পাশাপাশি চলছে।

বৈশ্বিক দক্ষিণ বা উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এখন নতুন সুযোগ ও চ্যালেঞ্জের সমন্বয়। বড় শক্তিগুলোর মধ্যে টানাপোড়েনের মধ্যেও তারা নিজেদের স্বার্থ রক্ষা, অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদার এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে লাভবান হতে পারে। তবে এর জন্য দরকার দক্ষ কূটনীতি, সুস্পষ্ট পররাষ্ট্রনীতি এবং জাতীয় স্বার্থের প্রতি স্থির অঙ্গীকার।

আজকের বিশ্বে যুদ্ধ বা সামরিক শক্তি নয়, বরং জ্ঞান, প্রযুক্তি, অর্থনীতি ও নৈতিক অবস্থানই প্রকৃত শক্তির পরিচায়ক হয়ে উঠছে। জলবায়ু সংকট, শরণার্থী সমস্যা ও বৈশ্বিক বৈষম্যের মতো বিষয়ে মানবিক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা নেওয়াই একটি দেশের ভাবমূর্তি গড়ে দেয়। তাই আন্তর্জাতিক সম্পর্কে কঠোর ক্ষমতার রাজনীতির পাশাপাশি নরম শক্তির ব্যবহার—সংস্কৃতি, শিক্ষা, কূটনীতি ও উন্নয়নের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার—ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

আমার মতে, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে তিনটি শব্দে—সংলাপ, সহযোগিতা ও পারস্পরিক সম্মান। ঠাণ্ডা মাথার কূটনীতি, মতভেদ সত্ত্বেও কথোপকথন চালিয়ে যাওয়ার সাহস, এবং জাতির স্বার্থের সঙ্গে বৈশ্বিক স্বার্থের ভারসাম্য—এগুলোই আমাদের পৃথিবীকে সংঘাতের দিকে নয়, বরং শান্তি ও উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নিতে পারে।

মন্তব্য করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত: আটকে পড়া বাংলাদেশিদের ফেরাতে দুবাইয়ে বিশেষ ফ্লাইট

ঈদ যাত্রায় আন্তঃনগর ট্রেনের দ্বিতীয় দিনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু

ঝুঁকির মধ্যে বিচারকার্য: দৌলতপুরে জরাজীর্ণ ভবনে চলছে সিনিয়র সহকারী জজ আদালত

সাংসদ নাসের রহমানের সাথে ভারতের সহকারী হাইকমিশনারের বৈঠক

এএফসি নারী এশিয়ান কাপ মুগ্ধতা ছড়িয়েও পারলো না বাংলাদেশ

হাবিপ্রবি’র জাতীয়তাবাদী কর্মচারী পরিষদের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

কুয়েতে মার্কিন কনস্যুলেটে হামলা: যা জানালো দেশটি

ডিসিকে ফোনে দেখে নেওয়ার হুমকি, পরদিন ঠিকই ডিসি প্রত্যাহার

কুষ্টিয়ায় ডিসি ইস্যু: আন্দোলন, মানববন্ধন ও প্রশ্নের মুখে রাজনীতি

সড়ক লাগানো অভিনন্দন বিলবোর্ড খোলার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

১০

১৯৫৩: এক গোপন অভ্যুত্থানের ছায়ায় বদলে যাওয়া ইরানের ভাগ্য

১১

ফর্সা হওয়ার দৌড় থেকে মুক্তি: আয়নার বাইরে দাঁড়িয়ে নতুন বাংলাদেশি নারীর উত্থান

১২

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক: প্রতিযোগিতা নয়, সহযোগিতাই ভবিষ্যতের পথ

১৩

এবার জানালেন নেতানিয়াহু, কতদিন চলবে ইরান যুদ্ধ

১৪

যে ইতিহাস ডাকছে মেসিকে

১৫

বিকাশে চাকরি, আবেদন করতে পারবেন যারা

১৬

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ : বাংলাদেশের অর্থনীতি কতটা ঝুঁকিতে?

১৭

ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ে সুখবর পেল জ্যোতিরা

১৮

নানকসহ ১২ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

১৯

মাহফুজকে বোতল নিক্ষেপে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানালেন হাসনাত

২০