
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে একসময় সেচের অভাবে পড়ে থাকা অনাবাদি জমিতে এখন গমের সোনালি আভা দুলছে। উপজেলার শ্রীরামপুর, ইব্রাহিমপুর ও রতনপুরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রায় ৫৫ হেক্টর পতিত জমি নতুন করে চাষাবাদের আওতায় আসায় স্থানীয় কৃষিতে এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলেছে।
কৃষি বিভাগের সঠিক পরিকল্পনা আর মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের তৎপরতায় চলতি মৌসুমে উপজেলায় মোট ৪০৫ হেক্টর জমিতে গমের আবাদ হয়েছে, যার মধ্যে রতনপুর ইউনিয়নের শাহপুর গ্রামেই এককভাবে বিশাল এলাকাজুড়ে গমের সমারোহ দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে বারি গম-৩৩ ও ডব্লিউএমআরআই-২ জাতের ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
পার্টনার প্রকল্পসহ সরকারের বিভিন্ন রবি প্রণোদনার আওতায় প্রায় তিন শতাধিক কৃষককে উন্নত বীজ ও সার সহায়তা দেওয়া হয়েছে। কৃষকরা জানান তারা অনেকেই এখন নিজ উদ্যোগে বীজ সংরক্ষণের পরিকল্পনা করছেন।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. জাহাঙ্গীর আলম লিটন জানান, স্বল্প সেচের ফসল হিসেবে গত দুই বছরে গমের আবাদ প্রায় ১০৫ হেক্টর বেড়েছে এবং আগামীতে লক্ষ্যমাত্রা ৫০০ হেক্টরে উন্নীত করার চেষ্টা চলছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মোস্তফা এমরান হোসেনও নিশ্চিত করেছেন যে, জেলার মধ্যে নবীনগরেই এখন গমের সর্বোচ্চ ফলন হচ্ছে, যা কৃষকদের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির নতুন পথ দেখাচ্ছে।
মন্তব্য করুন