
বগুড়ার ধুনট উপজেলায় চলতি মৌসুমে ২০ হাজার তালবীজ রোপণের কর্মসূচি শুরু করেছে ‘আমরা ধুনটবাসী কল্যাণ সংস্থা’। শনিবার সকালে শেরপুর উপজেলার রণবীরবালা ঘাট থেকে ধুনট উপজেলার মাঠপাড়া গ্রাম পর্যন্ত আঞ্চলিক সড়কের দুই পাশে তালবীজ রোপণের মধ্য দিয়ে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।
তালবীজ রোপণ উৎসবে শেরপুর ও ধুনট উপজেলার শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী অংশ নেন। এদিন আগে থেকে সংগ্রহ করা কয়েক হাজার তালবীজ রোপণ করা হয়, আর পর্যায়ক্রমে চলতি মৌসুমে বাকি বীজও রোপণ করা হবে বলে জানান আয়োজকরা। কর্মসূচি সফল করতে সহযোগী সংগঠন হিসেবে যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (বাওয়া), বর্ণবিলাস পাঠাগার ও সংগ্রহশালা, লাল ভালোবাসা এবং ধুনট সেন্ট্রাল লাইব্রেরি।
উৎসবে উপস্থিত ছিলেন আমরা ধুনটবাসী কল্যাণ সংস্থার সভাপতি আঁখিনূর জামান বকুল, সাধারণ সম্পাদক মোনাজ্জেমুল ইসলাম সুমন, বর্ণবিলাস পাঠাগার ও সংগ্রহশালার প্রতিষ্ঠাতা সাদিকুল বাশার শিশির এবং বাওয়ার সদস্য ও পরিবেশকর্মী এস এম আরিফুল আমিন প্লাবন।
তালবীজ রোপণ উৎসব ২০২৬-এর সমন্বয়কারী আঁখিনূর জামান বকুল বলেন, “২০১৬ সাল থেকে আমরা ধুনটবাসী কল্যাণ সংস্থার মাধ্যমে তালবীজ রোপণ করে আসছি। বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় এটি আমাদের ছোট্ট একটি উদ্যোগ। আমাদের এলাকায় তালগাছ বিলুপ্তপ্রায়, তাই আমরা পুরো ধুনটে তালগাছ রোপণ করতে চাই। প্রকৃতি ও পরিবেশ সুরক্ষায় তালবীজ রোপণের পাশাপাশি প্রতিবছর আমরা বিপুল পরিমাণ বৃক্ষরোপণ করে থাকি। আমাদের স্বেচ্ছাসেবীরা প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে ধুনটের বিভিন্ন গ্রামে বাড়ি বাড়ি গিয়ে উন্নত জাতের আমের চারা উপহার হিসেবে রোপণ করে দেন—চলতি বছর এ পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার আমের চারা উপহার দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া চলতি মৌসুমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বকুল, কৃষ্ণচূড়া, জারুল, চেরি ও কাঠবাদাম গাছের প্রায় ১ হাজার চারাও রোপণ করা হয়েছে।”
বাওয়ার সদস্য ও পরিবেশকর্মী এস এম আরিফুল আমিন প্লাবন বলেন, “বাওয়া বন্যপ্রাণী নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি পরিবেশ নিয়েও কাজ করছে, কারণ বন্যপ্রাণীর সঠিক সংরক্ষণ ও নিরাপদ আবাসস্থলের জন্য সুস্থ ও প্রাকৃতিক পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।”
মন্তব্য করুন