
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনার প্রতিবাদে প্রশাসনিক ভবন অবরুদ্ধ করে রাখেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এসময় ভেতরে থাকা একজন নারী কর্মচারী অসুস্থ হয়ে পড়লেও তাকে বের হতে না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরবর্তীতে শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে উত্তেজনা ও হট্টগোলের ঘটনাও ঘটে।
রবিবার (১৭ মে) বিকেলর বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ধর্ষণচেষ্টা ঘটনার বিচার, অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীরা সকাল ১০টায় প্রশাসনিক ভবনে তালা দেন। এতে ভবনটি কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। বিকেল ৪টায় অফিস সময় শেষ হলে ভেতরে অবস্থানরত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা আটকে পড়েন। তারা দীর্ঘ সময় গেটের সামনে অবস্থান করে বাইরে বের হওয়ার অপেক্ষায় থাকেন। অভিযোগ রয়েছে অবরুদ্ধ থাকা অবস্থায় এক নারী কর্মচারী ভিতরে অসুস্থ হয়ে পড়েন, কিন্তু তিনি বের হতে চাইলেও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সে সুযোগ দেয়নি।
পরিস্থিতি সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। একপর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। পরে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের তালা খুলে দেন।
এ বিষয়ে কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, আমাদের এক সহযোগী নারী কর্মচারী ভেতরে অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। তাদেরকে বলার পরও তারা তার পরিচয় জিজ্ঞেস করে। এসময় তাকে আমরা ভেতরে সোফার মধ্যে শুইয়ে মাথায় পানি দিচ্ছিলাম। তখনও তাকে বাইরে বের করতে পারিনি। আমরা বারবার তাদেরকে অনুরোধ করছি আমাদের কর্মচারীদেরকে আপনারা ছেড়ে দেন। উনারা কোনোভাবেই আমাদের কথা শোনেননি, কোনো রকম আমাদেরকে সহযোগিতাও করেননি।
এ বিষয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৫২তম ব্যাচের নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আনিকা তাবাসসুম বলেন, খবর আসে যে ভেতরে একজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তখন আমরা ভেতরে গিয়ে কথা বলি এবং জানাই, যিনি অসুস্থ হয়েছেন তাকে বের হয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হবে। কিন্তু সেখানে কয়েকজন এসে কেউ কোমর ব্যথা, কেউ মাথাব্যথার কথা বলেন। তখন আমরা তাদের অনুরোধ করি যে, আমরা সারাদিন ধরে অপেক্ষা করছি, আপনারা একটু সহযোগিতা করেন। আমরা কিছুক্ষণ পরেই ছেড়ে দেব। এরপরও আমরা বলেছি, যদি কেউ অজ্ঞান হয়ে যায় বা গুরুতর শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন, তাহলে সামনে আসুন আমরা বের হয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেব। কিন্তু এরপর আর কেউ সামনে আসেননি।
এর আগে শনিবার প্রক্টর অফিসে তালা ঝুলিয়ে প্রক্টর ও প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (১২ মে) রাত সোয়া ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজিলাতুন্নেছা হল সংলগ্ন এলাকায় এক নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা ঘটে।
মন্তব্য করুন