
ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে গুম ও অপহরণের ‘নাটক’ সাজিয়ে প্রকৃত ভুক্তভোগীদের অবমাননা, অনলাইনে সংঘবদ্ধভাবে সরকারবিরোধী অপপ্রচার এবং সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের অভিযোগের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রদল।
রোববার (১৪ জুন) দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিজীবী চত্বর থেকে মিছিলটি শুরু হয়। পরে এটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্যারিস রোডে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
মিছিলে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের বিভিন্ন হল শাখার নেতাকর্মী ও সংগঠনের দায়িত্বশীল নেতারা অংশ নেন। এ সময় তারা ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং অভিযুক্তদের দ্রুত বিচারের দাবি জানান।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুল হক মিঠু বলেন,
“বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী একটি সংগঠনকে ঘিরে জুলাই অভ্যুত্থানের পর অনেকেই ইতিবাচক পরিবর্তনের আশা করেছিলেন। কিন্তু বর্তমানে তাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, হত্যা, ভ্রূণহত্যা ও নারী নির্যাতনের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠছে। এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার হওয়া প্রয়োজন। যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার চেতনাকে অস্বীকার করেছে, তারা কোন নৈতিকতায় রাজনীতি করছে—সেটি আজ জাতির কাছে প্রশ্ন।”
রাবি ছাত্রদলের সহ-সভাপতি শাকিলুর রহমান সোহাগ বলেন,
“বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসানের বিরুদ্ধে এক নারীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ ওঠার পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান। পরবর্তীতে বিষয়টিকে গুম হিসেবে প্রচার করে বিভিন্ন মাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হয় বলে আমরা মনে করি। এর প্রতিবাদেই আজকের এই বিক্ষোভ কর্মসূচি।”
বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সরদার জহুরুল ইসলাম বলেন,
“দেশের মানুষের মধ্যে একটি গোষ্ঠী বিএনপিকে নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। এ ধরনের অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর কার্যক্রম বন্ধ হওয়া উচিত। আমরা প্রশাসনের কাছে দাবি জানাই, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।”
রাবি ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন,
“মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী শক্তির বিরুদ্ধে অতীতেও জনগণ অবস্থান নিয়েছে। যারা ধর্মের নাম ব্যবহার করে অপরাধকে আড়াল করার চেষ্টা করে, তাদের মুখোশ উন্মোচন করা প্রয়োজন। নারী নির্যাতন, ধর্ষণ ও সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের রাজনৈতিক পরিচয় নয়, অপরাধের ভিত্তিতে বিচার নিশ্চিত করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন,
“দেশবিরোধী ও সহিংস রাজনীতির পরিবর্তে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, মানবাধিকার এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি নিরাপদ সমাজ গড়ে তুলতে হবে।”
মন্তব্য করুন