
ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনসহ দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) বরাবরই অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম।
সোমবার (২৭ জুলাই) বিকাল সাড়ে ৪ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান অডিটোরিয়ামের সেমিনার কক্ষে জাতীয় ছাত্রশক্তি জাবি শাখার উদ্যোগে আয়োজিত ‘জুলাই: রক্তঋণের উত্তরাধিকার’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, “জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা নতুন করে বলার কিছু নেই। শুধু জুলাই গণঅভ্যুত্থান নয়, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাস রচনা করতে গেলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে কোনো ফুটনোট নয়, বরং একটি বিশাল অধ্যায় লিখতে হবে। জনগণবিরোধী ও গণতন্ত্রবিরোধী সব ইস্যুতেই জাহাঙ্গীরনগর সবার আগে ঝাঁপিয়ে পড়ত।”
ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে জাবির ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমরা যারা সে সময় ছাত্ররাজনীতি করতাম, আমাদের মধ্যে এক ধরনের প্রতিযোগিতা ছিল। আমরা দেখতাম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বারবার সফল হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো উপাচার্যের পদত্যাগ নিশ্চিত করা যায়নি, কিন্তু জাহাঙ্গীরনগর তা পেরেছে। গত সতেরো বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে একটি ক্যাম্পাস হিসেবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।”
জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ ইসলাম বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমান্তরালে আন্দোলন করেছে। এখানকার একজন শিক্ষকের ‘এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না’—এই উচ্চারণ গোটা দেশকে আন্দোলিত করেছিল। সাভারের ছাত্র-শ্রমিক-জনতাকে ঐক্যবদ্ধ করতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।”
নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “জুলাইয়ে আমরা ভাঙতে পেরেছি, এখন আমাদের গড়তে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কার জরুরি। উপাচার্য ও শিক্ষক নিয়োগকে নিয়মতান্ত্রিক করতে হবে এবং দলীয় বিবেচনায় শিক্ষক নিয়োগের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এসব প্রশ্নের সমাধান এখনো হয়নি। নতুন প্রজন্মকে এসব প্রশ্ন তুলতে হবে এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।”
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, জুলাই আমাদের একটি বড় শিক্ষা দিয়েছে- ঐক্যবদ্ধ তরুণ শক্তির কাছে কোনো ফ্যাসিবাদ টিকতে পারে না। ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে, পরিবর্তনের সূচনা করেছে তরুণরাই। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থান কিংবা ২০২৪ সালের আন্দোলন—প্রতিবারই শিক্ষার্থীদের রক্ত দিতে হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এই ঋণ শোধ হবে না শুধু অনুষ্ঠান, বক্তৃতা বা বই প্রকাশের মাধ্যমে। এটি শোধ করতে হলে প্রত্যেকের হৃদয়ে একটি বিশ্বাস ধারণ করতে হবে—আমাদের প্রত্যেকের বিচার করার একজন আছেন। আমি ব্যক্তিগতভাবে স্রষ্টায় বিশ্বাস করি। তাই আমি মনে করি, মানুষকে হয়তো ফাঁকি দেওয়া যায়, কিন্তু স্রষ্টাকে কখনো ফাঁকি দেওয়া যায় না। সে কারণেই, যিনি-ই হোন না কেন, কোনো অনৈতিক অনুরোধ আমি গ্রহণ করব না।
অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন, জাতীয় ছাত্রশক্তি জাবি শাখার আহ্বায়ক জিয়াউদ্দিন আয়ান। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন, আরিফুল ইসলাম আদীব, জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান, সাধারণ সম্পাদক আবু বকর মজুমদার, জাতীয় নারীশক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিন, জাতীয় যুবশক্তির সভাপতি অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম, জাকসুর ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু, জিএস মাজহারুল ইসলামসহ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা।
মন্তব্য করুন