
নিউ জার্সির জমজমাট ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ের একমাত্র গোলে আর্জেন্টিনাকে ১–০ ব্যবধানে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে স্পেন। ২০১০ সালের পর আবারও বিশ্ব ফুটবলের সিংহাসনে বসেছে ইউরোপের দেশটি।
পুরো ম্যাচজুড়েই আধিপত্য দেখিয়েছে স্পেন। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে একের পর এক আক্রমণ চালিয়েও গোলের দেখা পাচ্ছিল না তারা। তবে অতিরিক্ত সময়ের শুরুতে ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেন ফরোয়ার্ড ফেরান তোরেস। ১০৬তম মিনিটে পেদ্রো পোরোর ক্রস থেকে নিকো উইলিয়ামসের হেড পেয়ে জোরালো শটে বল জালে পাঠান তিনি। সেই এক গোলেই নির্ধারিত হয়ে যায় ২০২৬ বিশ্বকাপের নতুন চ্যাম্পিয়ন।
ম্যাচের শুরু থেকেই স্পেনের আক্রমণের চাপে ছিল আর্জেন্টিনা। লামিনে ইয়ামাল, দানি ওলমো, নিকো উইলিয়ামস ও মিকেল ওইয়ারসাবাল বারবার আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগকে ব্যতিব্যস্ত করে তোলেন। তবে গোলপোস্টের নিচে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখান এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। একের পর এক দুর্দান্ত সেভ করে দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন তিনি।

অন্যদিকে, আর্জেন্টিনা নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দ খুঁজে পায়নি। মাঝমাঠে লিয়ান্দ্রো পারেদেস ও রদ্রিগো দি পলদের লড়াই ছিল চোখে পড়ার মতো, কিন্তু আক্রমণভাগে কার্যকর কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি দলটি। পুরো ম্যাচে আর্জেন্টিনা গোলমুখে উল্লেখযোগ্য কোনো শট নিতে পারেনি।
দলের প্রাণভোমরা লিওনেল মেসিও ছিলেন অনেকটাই নিস্তেজ। স্প্যানিশ মিডফিল্ডের চাপে তিনি ম্যাচজুড়ে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। ফলে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ভেঙে যায় বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের।

নির্ধারিত সময়ের শেষদিকে আর্জেন্টিনা আরও বিপদে পড়ে। অতিরিক্ত সময়ে এনজো ফার্নান্দেজ লাল কার্ড দেখায় ১০ জনের দলে পরিণত হয় তারা। সংখ্যাগত সুবিধা কাজে লাগিয়ে স্পেন আক্রমণের গতি আরও বাড়িয়ে দেয়।
অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে স্পেন আরও একটি গোল করলেও অফসাইডের কারণে সেটি বাতিল হয়। শেষদিকে সমতায় ফেরার সুযোগ পেয়েও তা কাজে লাগাতে পারেনি আর্জেন্টিনা।
রেফারির শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই উল্লাসে ফেটে পড়ে স্পেন শিবির। ১৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে মাতে তারা। অন্যদিকে, লিওনেল মেসি ও তার সতীর্থদের মাঠ ছাড়তে হয় হতাশা নিয়েই।
মন্তব্য করুন