
বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার তারাছা ইউনিয়নের কয়েকটি দুর্গম পাড়ার একমাত্র যোগাযোগ সড়কটি সাম্প্রতিক পাহাড়ি বন্যায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে ক্যছালং পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ইউনিয়নের চারটি খুমী পাড়া ও তিনটি ম্রো পাড়ার মোট সাত পাড়াবাসী কয়েকশত বাসিন্দা চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড নির্মিত এই সড়কটিই দুর্গম নয়টি পাড়ার মানুষের একমাত্র যাতায়াতের পথ। পাহাড়ি ঢলে সড়কটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে যাওয়ায় শিক্ষার্থী, রোগী এবং সাধারণ মানুষের চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনেও দেখা দিয়েছে বড় ধরনের সংকট।
এলাকাবাসী জানান, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের সুপারিশে সড়কটির পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডে আবেদন করা হয়েছিল। তবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন না হওয়ায় সড়কটি দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। সাম্প্রতিক বন্যায় সেই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য নাং ফ্রা খুমী বলেন, “বান্দরবান-কুমা সড়ক থেকে সংযোগ সড়ক হয়ে খুমী ও ম্রো অধ্যুষিত কয়েকটি দুর্গম পাড়ায় যাওয়ার একমাত্র সড়কটি পাহাড়ি ঢলে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিষয়টি জেলা পরিষদ এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের নজরে আনা হয়েছে। আমরা দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছি।”
স্থানীয়দের দাবি, আগামী ২০২৬–২৭ অর্থবছরে সড়কটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পূর্ণাঙ্গভাবে সংস্কার করা হোক। তাদের মতে, দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হলে দুর্গম এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবাসহ দৈনন্দিন জীবনযাত্রা আবারও স্বাভাবিক হবে।
এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের আশা, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড দ্রুত ব্যবস্থা নিলে দীর্ঘদিনের এই যোগাযোগ সংকটের স্থায়ী সমাধান হবে।
মন্তব্য করুন