
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় হায়ার স্টাডি ক্লাবের উদ্যোগে বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য স্কলারশিপ, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, গবেষণা, আইইএলটিএস প্রস্তুতি, ভিসা প্রক্রিয়া এবং আন্তর্জাতিক আবেদন কৌশল নিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) অনুষ্ঠিত হয়েছে দিনব্যাপী বিশেষ সেমিনার ‘হায়ার স্টাডি ৩৬০°’।
এক আয়োজনে দেশি-বিদেশি শিক্ষা বিশেষজ্ঞ, আন্তর্জাতিক শিক্ষা পরামর্শ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পূর্ণাঙ্গ স্কলারশিপ পাওয়া জাবির সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি, আবেদন ও সফলতার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনের সেমিনার কক্ষে এই কর্মশালার উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান। এসময় অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম।
সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলা এ আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও অংশ নেন।
নিবন্ধন ও কুইজ প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক মাহদি হাসান। এরপর একে একে অনুষ্ঠিত হয় কমনওয়েলথ স্কলারশিপ, EducationUSA, স্টিপেন্ডিয়াম হাঙ্গেরিকাম, আইডিপি আইইএলটিএস মাস্টারক্লাস, স্মার্ট ইউনিভার্সিটি সিলেকশন, এমএক্সটি স্কলারশিপ, একাডেমিক সিভি রাইটিং এবং ইরাসমাস মুন্ডাস স্কলারশিপ-বিষয়ক সেশন।
কমনওয়েলথ স্কলারশিপবিষয়ক সেশনে ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের ‘President’s PhD Scholarship’ এবং ইউনিভার্সিটি অব লিডসের ‘Commonwealth PhD Scholarship’ অর্জনকারী সহকারী অধ্যাপক সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, আন্তর্জাতিক স্কলারশিপ অর্জনে ভালো ফলাফলের পাশাপাশি গবেষণার অভিজ্ঞতা, সুস্পষ্ট একাডেমিক লক্ষ্য এবং পরিকল্পিত প্রস্তুতির বিকল্প নেই। আবেদনকারীদের শুরু থেকেই গবেষণা ও প্রোফাইল গঠনে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
অভিজ্ঞতা বিনিময় পর্বে কানাডার কুইন্স ইউনিভার্সিটিতে পূর্ণাঙ্গ অর্থায়নে মাস্টার্স ও রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ পাওয়া আকমল মাসুদ বলেন, সঠিক পরিকল্পনা, গবেষণার অভিজ্ঞতা এবং সময়মতো প্রোফাইল প্রস্তুতিই তাঁকে সফলতা এনে দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার আবেদন নিয়ে অনুষ্ঠিত EducationUSA সেশনে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের অ্যাসিস্ট্যান্ট ইনফরমেশন অফিসার ড. মারা বার্ড এবং এডুকেশন আউটরিচ কোঅর্ডিনেটর মুহাম্মদ সোহেল ইকবাল আবেদন প্রক্রিয়া, অর্থায়নের সুযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন ও প্রস্তুতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তাঁরা নির্ভুল তথ্যের ভিত্তিতে আবেদন সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
পরে স্টিপেন্ডিয়াম হাঙ্গেরিকাম স্কলারশিপ নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ওরেগনে পূর্ণাঙ্গ অর্থায়নে পিএইচডি এবং হাঙ্গেরির ইউনিভার্সিটি অব ডেব্রেসেনে স্কলারশিপপ্রাপ্ত মো. শাহরিয়ার ইসলাম। তিনি আবেদন কৌশল, প্রোফাইল গঠন এবং প্রস্তুতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
দুপুরের বিরতির পর আইডিপি এডুকেশনের অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড অঞ্চলের অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার মারিয়া (ডালিয়া) ফ্লোইন আইইএলটিএস প্রস্তুতি, স্টেটমেন্ট অব পারপাস (SOP), স্কলারশিপ এবং বিদেশে উচ্চশিক্ষার আবেদন-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। তাঁর ভাষ্য, ভাষাগত দক্ষতা ও শক্তিশালী SOP একজন আবেদনকারীর সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এরপর স্মার্ট ইউনিভার্সিটি সিলেকশন ও অধ্যাপকদের কাছে কার্যকর ই-মেইল লেখার কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন ফারহান আপন। একই পর্বে যুক্তরাষ্ট্রের Wesleyan University-তে পূর্ণাঙ্গ অর্থায়নে পিএইচডির সুযোগ পাওয়া মো. মেহেদী হাসান গবেষণা, ল্যাব অভিজ্ঞতা এবং আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন নিয়ে নিজের যাত্রার গল্প তুলে ধরেন।
এমএক্সটি স্কলারশিপবিষয়ক সেশনে এস. এম. শাহরিয়ার আহমেদ জাপান সরকারের এ স্কলারশিপের আবেদন প্রক্রিয়া ও গবেষণার সুযোগ নিয়ে আলোচনা করেন। আর একাডেমিক সিভি রাইটিং সেশনে এমএক্সটি স্কলারশিপপ্রাপ্ত গাজী ইশমাম হাসান বলেন, একটি সুসংগঠিত ও তথ্যসমৃদ্ধ একাডেমিক সিভিই অনেক সময় আবেদনকারীর সফলতার প্রথম ধাপ। তিনি কার্যকর সিভি তৈরির বিভিন্ন কৌশল তুলে ধরেন।
দিনের শেষ সেশনে ইরাসমাস মুন্ডাস স্কলারশিপ নিয়ে বক্তব্য দেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী লামিয়া কবির। ইউরোপের পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌথ মাস্টার্সের সুযোগ পাওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, শক্তিশালী গবেষণা-প্রোফাইল, মানসম্মত SOP এবং সুপারিশপত্র আন্তর্জাতিক স্কলারশিপ অর্জনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
পুরস্কার বিতরণ, সনদ প্রদান ও সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হয় দিনব্যাপী এ আয়োজন।
সমাপনী বক্তব্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় হায়ার স্টাডি ক্লাবের সভাপতি আব্দুস সাফওয়ান বলেন, ‘হায়ার স্টাডি ৩৬০°’-এর লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষা, স্কলারশিপ, গবেষণা, ভর্তি ও ভিসাসংক্রান্ত নির্ভরযোগ্য তথ্য এক প্ল্যাটফর্মে শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া।
তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, স্কলারশিপপ্রাপ্ত গবেষক ও আন্তর্জাতিক শিক্ষা–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের একত্রিত করে শিক্ষার্থীদের জন্য বৈশ্বিক উচ্চশিক্ষার একটি সমন্বিত রোডম্যাপ তৈরি করাই এ আয়োজনের উদ্দেশ্য। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম নিয়মিত আয়োজনের আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মন্তব্য করুন