
চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার কনফিডেন্স লবণ কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়েছেন ১১ জন শ্রমিক। এ ঘটনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। আহতদের মধ্যে আরও ছয়জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে বোয়ালখালী পৌরসভার পশ্চিম গোমদণ্ডী এলাকার কনফিডেন্স লবণ কারখানায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন পটিয়া উপজেলার হুলাইন এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ নুরুল আলম (৪৫), তিনি মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে এবং দিদারুল আলম (৩২)। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের বার্ন ও সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারা মারা যান। এর মধ্যে নুরুল আলম বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ২০ মিনিটে হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বরত উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলাউদ্দিন মজুমদার দুই শ্রমিকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দগ্ধ অন্যান্য শ্রমিকরা হলেন— মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন (৩৮), নূর নবী (২৫), উজ্জ্বল দাশ (৫৩), মোহাম্মদ লিটন (২৮), সিরাজুল ইসলাম (৩৪), জাহিদুল আলম (৪২), মাহামুদুল হক (৪৫), সেলিম উদ্দিন (৩০) এবং আহসানুল হক (৪৫)।
আহত শ্রমিকরা জানান, হঠাৎ একটি বিস্ফোরণের পর মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কারখানায় ওয়েল্ডিংয়ের কাজ চলাকালে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে এসির গ্যাস লিকেজ হয়। পরে এসি বিস্ফোরণের ঘটনায় এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটে।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে ভর্তি আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে। কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে ছয়জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
এ বিষয়ে বোয়ালখালী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের স্টেশন লিডার মোহাম্মদ আজাহার বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলাম। তবে সেখানে পৌঁছানোর আগেই স্থানীয়ভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার খবর পেয়ে আমরা ফিরে আসি।”
বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফফর হোসেন বলেন, “প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ওয়েল্ডিংয়ের কাজ করার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।
মন্তব্য করুন