
বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও জেলার সঙ্গে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ এখনো স্বাভাবিক হয়নি। রোববার সকাল থেকে বৃষ্টি কমে আসায় জেলা শহরের কয়েকটি নিম্নাঞ্চল থেকে পারনি নামতে শুরু করেছে। তবে পাহাড়ধস, সড়কের ক্ষয়ক্ষতি এবং বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বান্দরবান–রাঙামাটি, রোয়াংছড়ি, রুমা, থানচি এবং বাঙ্গালহালিয়া–চন্দ্রঘোনা সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। লামা ও আলীকদমের বিভিন্ন সড়ক এখনো পানির নিচে থাকায় সেখানে স্বাভাবিক যোগাযোগ চালু হয়নি। এ ছাড়া চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার বাজালিয়া এলাকায় সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারগামী দূরপাল্লার বাস চলাচলও বন্ধ রয়েছে।
জেলা শহরের অধিকাংশ এলাকা থেকে পানি নেমে গেলেও ব্রিগেড এলাকা, বেতার এলাকা ও পুলিশ লাইন এলাকায় এখনো জলাবদ্ধতা রয়েছে। বালাঘাটা ব্রিগেড এলাকা ও পুলিশ লাইন এলাকায় নৌকায় চলাচল করতে দেখা গেছে। অন্যদিকে বাঙ্গালহালিয়ার ব্রিজঘাটা এলাকায় বেইলি সেতু ভেঙে পড়ায় মোটরসাইকেল ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচলও বন্ধ রয়েছে।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ২ হাজার ৬৫০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে ৫ কেজি চাল, ১ কেজি ডাল, ১ লিটার তেল, বিশুদ্ধ পানি, আলু, সাবান, স্যানিটারি প্যাড, ওরস্যালাইন ও মোমবাতি বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ২১৮ জন শিশুর জন্য গুঁড়ো দুধ, সুজি ও ডায়াপার সরবরাহ করা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্র ও নিরাপদ স্থানে থাকা প্রায় ৩ হাজার ৩০০ মানুষের দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়া রাতে ৮ হাজারের বেশি মানুষের জন্য রান্না করা খাবার প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
তবে বন্যাকবলিত অনেক মানুষের অভিযোগ, শনিবার হঠাৎ পানি বেড়ে যাওয়ায় তাঁরা আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে পারেননি। অনেকেই খোলা আকাশের নিচে ত্রিপল টাঙিয়ে অবস্থান করছেন। এসব এলাকায় এখনো পর্যাপ্ত ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা পৌঁছেনি বলে দাবি করেছেন তাঁরা।
জেলা শহরে বিদ্যুৎ ও অধিকাংশ এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক স্বাভাবিক হলেও রুমা, রোয়াংছড়ি, থানচি, লামা ও আলীকদম উপজেলার অধিকাংশ এলাকায় এখনো বিদ্যুৎ, মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রয়েছে।
এদিকে সাঙ্গু নদী তীরবর্তী তিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকা এবং লামা ও আলীকদমের নিম্নাঞ্চলের অনেক মানুষ এখনো আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়ায় জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র ১৫ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত বহাল রয়েছে।
মন্তব্য করুন