
‘আমার স্বপ্ন, পরিশ্রম করে গড়া সব শেষ। বানের পানিতে সব মূলধন ভেসে গেছে। এখন বাঁচার আর কোনো পথ দেখি না।’ কথাগুলো বলতে বলতে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার এক কৃষক।
টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় রোয়াংছড়ি উপজেলার চার ইউনিয়নের শতাধিক কৃষকের ফসলি জমি, সবজিক্ষেত, মাছের পুকুর ও কৃষি খামার পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বাজারপাড়া, ওয়াগইপাড়া, বটলীপাড়া, লাপাইগইপাড়া, গ্রোক্ষ্যংপাড়া, কাইন্তারমুখপাড়া, অংগ্যপাড়া, রেতছড়ামুখ ও তালুকদারপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকার কৃষকেরা কয়েক দিনের ব্যবধানে বছরের সঞ্চয় ও জীবিকার প্রধান অবলম্বন হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, উপজেলার বিস্তীর্ণ কৃষিজমি এখনো পানির নিচে রয়েছে। ধান, ধনিয়াপাতা, শসা, পেঁপে ও বিভিন্ন ধরনের সবজির ক্ষেতের পাশাপাশি মাছের পুকুরও ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। অনেক কৃষক ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছিলেন। ফসল হারিয়ে এখন ঋণের কিস্তি পরিশোধ এবং পরিবার চালানো নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন তারা।
৪৫ বছর বয়সী কৃষক থোয়াইপামং মারমা বলেন, তিন কানি জমিতে শসার চাষ করেছিলেন। বন্যার পানিতে পুরো ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। এতে তাঁর প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
একই এলাকার কৃষক উচপ্রু মারমা বলেন, তাঁর আড়াই বিঘা জমির ফসল এবং প্রায় এক হাজার ফলন্ত পেঁপে গাছ পানিতে তলিয়ে সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে। এতে প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
কৃষক সজিব তঞ্চঙ্গ্যা জানান, ২০ শতক জমিতে ধনিয়াপাতার চাষ করেছিলেন। কয়েক দিনের মধ্যেই বাজারে তোলার কথা ছিল। কিন্তু এক রাতের বন্যায় পুরো ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। এতে তাঁর প্রায় আড়াই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
কপালে হাত রেখে সজিব তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, ‘এখন পথে বসা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। ধারদেনা কীভাবে শোধ করব, সংসার কীভাবে চালাব—কোনো পথ খুঁজে পাচ্ছি না।’
রোয়াংছড়ি উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষি কর্মকর্তা মো. এহসানুল হক বলেন, বন্যার পানি নেমে গেলে মাঠপর্যায়ে সরেজমিনে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তথ্য সংগ্রহ করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হবে। পরে এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।
মন্তব্য করুন