
বাংলাদেশ চিশতিয়া জাকের মঞ্জিল দরবার শরিফ দেশের অন্যতম সুপরিচিত দ্বীনি ও আধ্যাত্মিক প্রতিষ্ঠান। ইসলামের সুমহান আদর্শ, আহলে বাইতের মহব্বত, জিকির-আযকার, আত্মশুদ্ধি এবং ইসালে সওয়াবের শিক্ষা বিস্তারে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে এ দরবার।
দরবারটির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন ভারত-বাংলার অন্যতম প্রখ্যাত আলেম, হাদী, বহু ভাষাবিদ ও পীর-এ-কামেল হযরত সৈয়দ আবুল হাসান চিশতী আজমেরী (রহ.)। তিনি শরিয়ত, তরিকত, মারিফত ও হকিকতের সমন্বিত শিক্ষার মাধ্যমে অসংখ্য মানুষের হৃদয়ে ঈমান, তাকওয়া ও রাসূলপ্রেমের আলো ছড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর সোহবত ও আধ্যাত্মিক দিকনির্দেশনায় বহু মানুষ ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণের সৌভাগ্য লাভ করেন।
১৯৭৭ সাল থেকে বাংলাদেশ চিশতিয়া জাকের মঞ্জিল দরবার শরিফে মহাপবিত্র উরস মোবারক, ইসালে সওয়াব ও দোয়া মাহফিলের সূচনা হয়। প্রথমদিকে টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতীতে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হলেও পরবর্তীতে পীর কেবলা সৈয়দ আবুল হাসান চিশতী (রহ.)-এর নির্দেশনায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার ছত্রাজিতপুর ইউনিয়নের মিয়াপাড়ায় স্থায়ীভাবে এ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
পীর কেবলা সৈয়দ আবুল হাসান চিশতী (রহ.) পর্দা নেওয়ার পূর্বে তাঁর একমাত্র সন্তান ও সুযোগ্য উত্তরসূরি পীরজাদা সৈয়দ নজরুল ইসলাম শামিম চিশতী আজমেরীর হাতে খেলাফত ও দরবার পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করেন। বর্তমানে তাঁর নেতৃত্বে দরবার শরিফ দ্বীনি শিক্ষা, আধ্যাত্মিক প্রশিক্ষণ ও ইসলামী মূল্যবোধ প্রচারে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
প্রতি বছর ২১ ও ২২ নভেম্বর বাংলাদেশ চিশতিয়া জাকের মঞ্জিল দরবার শরিফে বাৎসরিক ইসালে সওয়াব ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এ উপলক্ষে বাংলাদেশসহ ভারত-বাংলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে হাজার হাজার মুরিদ, জাকের, ভক্ত ও আশেকানে রাসূল (সা.) দরবারে সমবেত হন। মাহফিলে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, জিকির-আযকার, তাফসিরুল কুরআন, হামদ, নাত, গজল, ইসালে সওয়াব এবং দেশ, জাতি ও উম্মাহর কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হযরত সৈয়দ আবুল হাসান চিশতী (রহ.)-এর দাওয়াতি কার্যক্রম ও আধ্যাত্মিক প্রভাবের মাধ্যমে বহু মানুষ ইসলামের সুমহান আদর্শের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছেন। বর্তমানে তাঁর পবিত্র মাজার শরিফ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার ছত্রাজিতপুর ইউনিয়নের মিয়াপাড়ায় অবস্থিত। সেখানে নিয়মিত সাপ্তাহিক, মাসিক ও বাৎসরিক মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এসব মাহফিলে কবরবাসী মাইয়্যেতদের মাগফিরাত কামনা, জিকির-আযকার, তাফসির, হামদ, নাত ও গজল পরিবেশনের মাধ্যমে এক হৃদয়স্পর্শী আধ্যাত্মিক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশ চিশতিয়া জাকের মঞ্জিল দরবার শরিফ আত্মশুদ্ধি, দ্বীনি জ্ঞানচর্চা, ইসালে সওয়াব, জিকির-আযকার, আহলে বাইতের ভালোবাসা এবং আশেকানে রাসূল (সা.)-দের আধ্যাত্মিক বিকাশের এক নির্ভরযোগ্য কেন্দ্র হিসেবে সুপরিচিত। ইসলামের শান্তি, সৌহার্দ্য, মানবকল্যাণ ও নৈতিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় এ দরবারের অবদান মুসলিম সমাজে বিশেষভাবে প্রশংসিত।
মন্তব্য করুন