
কুয়াকাটায় পর্যটন শিল্পে বিনিয়োগ করে এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় পড়েছেন বিনিয়োগকারীরা। উন্নয়নের আশায় বিনিয়োগ করা এক উদ্যোক্তার সীমানা প্রাচীর রাতের আঁধারে ভেকু দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কুয়াকাটার প্রভাবশালী একটি মহলের বিরুদ্ধে। পৌর এলাকার ৩ নং ওয়ার্ডে বেঙ্গল গেস্ট হাউজ এবং শশী কটেজের মধ্যবর্তী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী বিনিয়োগকারী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় ১০ ফুটের একটি হাঁটার রাস্তা ছিল। স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতে জমির মালিকরা রাস্তার জন্য জমি ছেড়ে দিয়ে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করেছিলেন।
কিন্তু গত দুই দিন আগে ( ১১ জুন) গভীর রাতে পৌরসভার ভেকু ব্যবহার করে কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ ছাড়াই সীমানা প্রাচীর ভেঙে ফেলা হয়।
ভুক্তভোগী বিনিয়োগকারী এড. সিদ্দিকুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, “আমরা ঢাকা থেকে এখানে বিনিয়োগ করতে এসেছি। কোনো প্রকার আইনি নোটিশ ছাড়াই রাতের আঁধারে আমার প্রজেক্টের বাউন্ডারি ওয়াল ভেঙে দেওয়া হয়েছে। যারা এই কাজটি করেছে, তারা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী। বাধা দিতে গেলে আমাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে।”
এই ভাঙচুরের ফলে স্থানীয় পর্যায়ে মারাত্মক জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী জানান, দেয়াল ভাঙার সময় পানি নিষ্কাশনের পাইপলাইন ভেঙে ফেলা হয়েছে এবং বক্স কালভার্টটি মাটির নিচে চাপা পড়ে গেছে। ফলে ওই এলাকার ৩-৪টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে পৌর প্রশাসকের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি এ বিষয়ে অবগত নন বলে জানিয়েছেন।
পর্যটন নগরী কুয়াকাটার সার্বিক পরিবেশ ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসন ও উচ্চপদস্থ রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী। তিনি অবিলম্বে এই অরাজকতার বিচার ও ক্ষতিগ্রস্ত সম্পদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় তিনি উচ্চ আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
এলাকাবাসী বলছেন, পর্যটন কেন্দ্রের এমন অস্থিতিশীল পরিস্থিতি পর্যটকদের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে বিনিয়োগকারীরা কুয়াকাটা বিমুখ হয়ে পড়বেন।
মন্তব্য করুন