
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের বাহেরমাদী টোলপাড়া এলাকায় সরকারি ক্যানাল থেকে অবাধে মাটি কাটার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, একটি চক্র রাতের আঁধারে স্কেভেটর মেশিন ব্যবহার করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ক্যানালের মাটি কেটে বিভিন্ন ইটভাটা ও ভরাট কাজে বিক্রি করছে।
অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় মাটি কাটা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এতে সরকারি সম্পদের ক্ষতির পাশাপাশি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও ক্যানালের স্থায়িত্ব নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।
সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ক্যানালের পাড় কেটে ট্রলি চলাচলের জন্য আলাদা রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। ক্যানালের বিভিন্ন স্থানে গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে, যা দেখে সহজেই বোঝা যায় ব্যাপক পরিমাণ মাটি অপসারণ করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে একটি স্কেভেটর মেশিনও দেখা যায়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, গত মঙ্গলবার ও বুধবার রাতেই শত শত ট্রলিতে করে মাটি বিভিন্ন স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সহযোগিতায় এ কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন এলাকাবাসী জানান, সরকারি সম্পদ রক্ষার দায়িত্ব যাদের, তাদের নীরবতার সুযোগে ক্যানালটি কার্যত মাটির খনিতে পরিণত হয়েছে। প্রতিবাদ করলে নানা ধরনের চাপের মুখে পড়তে হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত হিসেবে স্থানীয়দের অভিযোগে উঠে আসা বানাত ব্যাপারীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে দাবি করেন, নিজস্ব জমি থেকে মাটি কাটা হচ্ছে। তবে পরে বক্তব্যে অসঙ্গতি দেখা দিলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।
ফিলিপনগর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান একরামুল হক বলেন, সরকারি ক্যানালের মাটি কাটার অভিযোগ শুনেছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। প্রশাসনকে অবহিত করা হবে।
দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ বলেন, “অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, সরকারি ক্যানাল ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ রক্ষায় দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
মন্তব্য করুন