
ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. ইস্রাফিল বলেছেন, শিক্ষা ও গবেষণার এমন এক অনন্য পরিবেশ তৈরি করতে হবে যাতে দেশের অন্যান্য বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয় বাদ দিয়েও শিক্ষার্থীরা স্বপ্ন নিয়ে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসে। এটি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হলেও সঠিক পরিকল্পনা ও মানসম্মত শিক্ষার মাধ্যমে তা সম্ভব।
মঙ্গলবার (২৬ মে) সকাল ১০টায় ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ প্রেসক্লাব হলরুমে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় ও সম্মাননা অনুষ্ঠানে বক্তব্যে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. ইস্রাফিল এসব কথা বলেন।
উপাচার্য বলেন, “আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও শিক্ষক ছিলাম। তাই আমার ভেতরেও একটা সুস্থ প্রতিযোগিতা কাজ করে। আমাদের লক্ষ্য শুধু স্থানীয় ছেলেমেয়েদের ধরে রাখাই নয়, বরং দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মেধাবীদেরও এখানে টেনে আনা। কোনো শিক্ষার্থী যেন এটাকে ঢাকা বা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘চান্স না পেয়ে’ পড়ার বিকল্প হিসেবে না দেখে। ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় নিজেই যেন শিক্ষার্থীদের প্রথম পছন্দের স্বপ্নের জায়গা হয়ে ওঠে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে গণমাধ্যমের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো সমালোচনা বা জবাবদিহির বিষয় থাকলে তা আগে না লিখে সরাসরি আমার সাথে পরামর্শ করতে পারেন। আমার ফোন নম্বর সবসময় খোলা। আপনারা মতামত দিন, গঠনমূলক সমালোচনা করুন এবং সঠিক গাইডলাইন দিন।”
নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের আপস করা হবে না উল্লেখ করে ড. মো. ইস্রাফিল বলেন, “পিয়ন, দারোয়ান থেকে শুরু করে যেকোনো পদের জন্য লোক এই অঞ্চল থেকেই নেওয়া হবে। তবে মনে রাখতে হবে, তারা ৩৫-৪০ বছর এই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করবেন। তাই যারা আসবেন, তাদের অবশ্যই বিশ্ববিদ্যালয়ের মান-মর্যাদা ও কদর বুঝতে হবে। পুরো টিমকে পরিশ্রমী, মেধাবী ও দায়িত্বশীল হতে হবে।”
দেশ গঠনে সবাইকে সর্বোচ্চ পরিশ্রম করার তাগিদ দিয়ে উপাচার্য বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেভাবে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নিরলস পরিশ্রম করছেন, আমাদেরও সেভাবে কাজ করতে হবে। শুধু প্রধানমন্ত্রী একাই কাজ করবেন আর আমরা এটাকে সাধারণ চাকরি হিসেবে নেব—তাহলে কিন্তু বিএনপির বড় ব্যর্থতা হবে।”
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়কে কেমন দেখতে চাই, তা নিয়ে আমি খুব শীঘ্রই এলাকার স্কুল, কলেজ, এমনকি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতেও যাব। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সাথে মতবিনিময় করব। এগুলো আমার গবেষণার কাজের জন্যও দরকার, যা আগামী ২০ বছর পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সূচনালগ্নের একটি ঐতিহাসিক আর্কাইভ বা স্মৃতি হিসেবে থেকে যাবে।”
পীরগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি জয়নাল আবেদীন বাবুলের সভাপতিত্বে এবং সহ-সভাপতি মোকাদ্দেস হায়াত মিলনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমান জাহিদ, পীরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল ইসলাম জিয়া এবং পীরগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নসরতে খোদা রানা।
অনুষ্ঠানে পীরগঞ্জ প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. ইস্রাফিলকে বিশেষ সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।
মন্তব্য করুন