
কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন সাদা লবণের ঝিলিক। দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন সাদা চাদরে ঢেকে গেছে পুরো জনপদ। এই লবণের মাঠ ঘিরেই জীবিকা নির্বাহ করেন হাজারো পরিবার। তবে প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করে উৎপাদন বাড়ালেও ন্যায্য দাম না পাওয়ায় হতাশায় দিন কাটছে এখানকার লবণ চাষীদের।
স্থানীয় চাষীরা জানান, চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় লবণ উৎপাদন তুলনামূলক ভালো হয়েছে। কিন্তু বাজারে দাম কম থাকায় উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। মাঠ প্রস্তুত, শ্রমিকের মজুরি, পানি সেচ ও পরিবহন খরচ দিন দিন বাড়লেও সেই অনুযায়ী বাড়ছে না লবণের দাম।
চাষীরা আরও বলেন, অনেক সময় মধ্যস্বত্বভোগীরা কম দামে লবণ কিনে বেশি দামে বাজারে বিক্রি করলেও প্রকৃত উৎপাদকরা লাভ থেকে বঞ্চিত হন। ফলে ঋণ নিয়ে চাষ করা অনেক কৃষক মৌসুম শেষে আর্থিক সংকটে পড়ে যাচ্ছেন।
এদিকে হঠাৎ বৃষ্টি বা বৈরী আবহাওয়া দেখা দিলে কয়েক দিনের পরিশ্রম মুহূর্তেই নষ্ট হয়ে যায়। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েন ছোট ও মাঝারি চাষীরা। তবুও জীবিকার তাগিদে বছরের পর বছর লবণের মাঠ আঁকড়ে ধরে আছেন তারা।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, লবণ চাষীদের জন্য সরকারি সহায়তা, সহজ শর্তে ঋণ ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে এ শিল্প আরও সমৃদ্ধ হবে। পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি ও সংরক্ষণ সুবিধা বাড়ানো গেলে মহেশখালীর লবণ শিল্প দেশের অর্থনীতিতে আরও বড় ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
প্রতিদিন সূর্যের তাপে পুড়ে, নোনাজলের সঙ্গে লড়াই করে স্বপ্ন বুনছেন মহেশখালীর লবণ চাষীরা। তাদের একটাই প্রত্যাশা—পরিশ্রমের ন্যায্য মূল্য আর একটু স্বস্তির জীবন।
মন্তব্য করুন