
যান্ত্রিক জীবনের কোলাহলে হারিয়ে যাওয়া পুরনো সেই হাসিমুখগুলো কি আবার এক সারিতে দাঁড়াবে? চট্টগ্রাম বন্দরের জেটি থেকে শুরু করে ওয়ার্কশপ পর্যন্ত যাদের ঘাম আর শ্রমে সচল থাকে দেশের অর্থনীতির চাকা, তাদের সবাইকে এক ছাদের নিচে আনার এক অনন্য স্বপ্ন দেখছেন বন্দর এলাকার কৃতি সন্তান ও যান্ত্রিক বিভাগের জনপ্রিয় মুখ জনাব জাহিদ হোসাইন ভুট্টো।
আসন্ন চট্টগ্রাম বন্দর সিবিএ (২৫৩৯) নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সাধারণ কর্মীদের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন তিনি। সম্প্রতি এক ফেসবুক ভিডিও বার্তায় তিনি সকল সাবেক ও বর্তমান কর্মীদের এই মিলনমেলায় শামিল হওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানান। তার এই উদ্যোগের লক্ষ্য—এক বিশাল ‘মিলনমেলা’, যেখানে একপাশে থাকবে অভিজ্ঞতার ঝুলি নিয়ে বসে থাকা সাবেক কর্মীরা, আর অন্যপাশে থাকবে আগামীর স্বপ্ন নিয়ে কাজ করা বর্তমান প্রজন্ম।
এই উদ্যোগ প্রসঙ্গে জাহিদ হোসাইন ভুট্টো ভিডিও বার্তায় বলেন— “আমরা যখন কাজে যোগ দিয়েছিলাম, তখন যারা আমাদের হাত ধরে কাজ শিখিয়েছিলেন, আজ তারা অবসরে। অনেকেই হয়তো একাকী জীবন কাটাচ্ছেন। আমরা চাই তাদের সেই অভিজ্ঞতাকে সম্মান জানাতে এবং আমাদের ভ্রাতৃত্বের বন্ধন চিরস্থায়ী করতে। বন্দর আমাদের পরিবার, আর পরিবারের সদস্যদের কোনোদিন ‘প্রাক্তন’ হতে নেই।”
সাধারণত সিবিএ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কেবল দাবি-দাওয়ার লড়াই দেখা গেলেও, জাহিদ হোসাইন ভুট্টোর এই মানবিক উদ্যোগ কর্মীদের মনে এক ভিন্ন আবহ তৈরি করেছে। তিনি কেবল ভোটার নয়, বরং প্রতিটি কর্মীকে একটি পরিবারের সদস্য হিসেবে গণ্য করছেন।
এই ‘মিলনমেলা’র পরিকল্পনায় থাকছে— সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মীদের বিশেষ সম্মাননা প্রদান, পুরনো দিনের স্মৃতিচারণ ও অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং সাংস্কৃতিক আয়োজন ও প্রীতিভোজ।
আসন্ন নির্বাচনে জাহিদ হোসাইন ভুট্টোর এই উদ্যোগকে সাধারণ শ্রমিক-কর্মচারীরা দেখছেন ‘হৃদয় দিয়ে জয় করার’ কৌশল হিসেবে। যান্ত্রিক বিভাগের এই নিবেদিতপ্রাণ কর্মী বিশ্বাস করেন, কর্মীদের মধ্যে যদি আত্মার সম্পর্ক না থাকে, তবে কেবল দাবি আদায়ে সুফল আসে না। ঐক্যই যেখানে মূল শক্তি, সেখানে এই মিলনমেলা হবে ঐক্যের প্রথম ধাপ।
বন্দরের আনাচে-কানাচে এখন একটাই আলোচনা—কবে দেখা হবে সেই পুরনো সহকর্মীদের সাথে? জাহিদ হোসাইন ভুট্টোর এই স্বপ্ন এখন বন্দরের হাজারো কর্মীর অভিন্ন স্বপ্নে পরিণত হয়েছে।
মন্তব্য করুন