
বান্দরবান পার্বত্য জেলায় পূর্বের যে কোন সময়ের চেয়ে, অবৈধভাবে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের ঘটনা বেড়েই চলছে।চলতি মাসের গত ৫ই মে, কক্সবাজার রোহিঙ্গা ক্যাম্প হতে অবৈধভাবে বান্দরবান জেলা সদরে অনুপ্রবেশ কালে বান্দরবান সেনা রিজিয়নের, রেইসা সেনা চৌকিতে তল্লাশীকালে একসাথে ২১ জন রোহিঙ্গা নাগরিক আটক হয়।
এটা রীতিমতো চাঞ্চল্যকর বিষয়, এর কিছুদিন পর, একই মাসের ১২ই মে ৮ জন রোহিঙ্গা নাগরিককে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা সদরের বাস স্টেশন এলাকার সৌদিয়া কাউন্টারের সামনে হতে তাদের আটক করে রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইয়ের সদস্যরা।
সুত্র জানায়, আটককৃতরা কক্সবাজার জেলার উখিয়া থানাধীন বালুখালী এলাকার ক্যাম্প-১২ হতে ৪ জন এবং ক্যাম্প-১৮ হতে ৪ জন। আটককৃত রোহিঙ্গা নাগরিকরা হলেন, মোঃ হারুন (১৭), মহিদুর রহমান (১৯), মোঃ আমিন (২৩), হোসেন আলী (২২), আব্দুল হাফেজ (২৫), আবু তৈয়ব (২২) ও মোঃ ইব্রাহিম (২২)।
সুত্র জানায়, আটককৃতরা কক্সবাজার জেলার উখিয়া থানাধীন বালুখালী এলাকার ক্যাম্প-১২ হতে ৪ জন এবং ক্যাম্প-১৮ হতে ৪ জন। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের বান্দরবান সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বান্দরবান সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ শাহেদ পারভেজ জানান, জেলায় চলতি বছরের বিভিন্ন সময়ে সেনাবাহিনী সহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে শতাধিক অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গা নাগরিক আটক হয়েছে।জেলায় রোহিঙ্গা নাগরিক অনুপ্রবেশ ঠেকাতে ইতিমধ্যে সদর থানা পুলিশের তৎপরতা বৃদ্ধির পাশাপাশি, গোয়েন্দা নজরদারিও বৃদ্ধি করা হয়েছে।
গতকাল জেলা সদরের বাস স্টেশন এলাকা হতে আটককৃত রোহিঙ্গা নাগরিকদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের বিরুদ্ধে চলমান আইনে আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহণ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন আছে।
প্রসঙ্গত বান্দরবান জেলা সদর সহ ৭ টি উপজেলায় চলমান সরকারি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ, ইটভাটা, দূর্গম এলাকায় গাছ কেটে পরিবহন, পাথর, বালি উত্তোন সহ বিভিন্ন কাজের দৈনিক দিনমজুর হিসেবে তাদের কে বিভিন্ন উপায়ে নিয়ে আসে ঠিকাদার অথবা দালালের মাধ্যমে। ইতিপূর্বেও বাংলাদেশের নাগরিক না হওয়ার কারনে, রোহিঙ্গা নাগরিকরা, সামাজিক নানা অপৃতিকর ঘটনার সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে।
এছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মোটা টাকার বিনিময়ে, বাংলাদেশের নাগরিক সনদপত্র বানিয়ে ও জায়গাজমি কিনে স্থায়ীভাবে বসবাসেরও ঘটনা ঘটছে।
অবৈধভাবে রোহিঙ্গা নাগরিক অনুপ্রবেশ ঠেকাতে প্রশাসনের আরো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে বলে মন্তব্য করছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
মন্তব্য করুন