
পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, ছাঁটাই বন্ধ এবং বকেয়া বেতন পরিশোধসহ বিভিন্ন দাবিতে গাজীপুর, আশুলিয়া ও সাভারের শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। এরই মধ্যে গাজীপুরের কোনাবাড়ী পুলিশ বক্সে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
রোববার (১ নভেম্বর) সকাল থেকে গাজীপুরের চন্দ্রা, পল্লী বিদ্যুৎ, সফিপুর, কোনাবাড়ী, মৌচাক, নাওজোড় ও ভোগড়া বাইপাস এলাকায় শ্রমিক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। শ্রমিকদের বিক্ষোভের কারণে চন্দ্রা-নবীনগর এবং চন্দ্রা-গাজীপুর সড়কের বিভিন্ন অংশে যানবাহন চলাচল ব্যাহত ও বন্ধ হয়ে যায়। এতে সাধারণ যাত্রীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়।
পরিস্থিতির অবনতি ও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আশুলিয়া, সাভার ও গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের অন্তত ৮০টি তৈরি পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। শ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং কারখানার সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগ
শ্রমিকদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে পোশাকশ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে মজুরি বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ বিষয়ে রোববার আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর আগে শনিবার (৩১ অক্টোবর) শ্রম ভবনে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) ও বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
বৈঠক শেষে মন্ত্রী জানান, শ্রমিকদের দাবি বিবেচনায় নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। বোর্ডে শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্বও রাখা হবে। একই সঙ্গে আন্দোলন পরিহার করে শ্রমিকদের শান্তিপূর্ণভাবে কাজে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সড়ক অবরোধ ও সংঘর্ষ
গত শনিবার গাজীপুরের কালিয়াকৈরের পল্লী বিদ্যুৎ ও চন্দ্রা এলাকা এবং সাভারের বিভিন্ন স্থানে ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম বেতনের দাবিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা। এ সময় পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষ, ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
রোববারও বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে বিক্ষোভ অব্যাহত থাকায় যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। রাজধানীর মিরপুর ও উত্তরার বিভিন্ন এলাকাতেও শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটেছে।
বিজিবি মোতায়েন, বকেয়া পরিশোধের উদ্যোগ
শ্রমিক অসন্তোষের মধ্যে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গাজীপুরের চন্দ্রা ও পল্লী বিদ্যুৎ এলাকা, সফিপুর, কোনাবাড়ী, মৌচাক, নাওজোড় এবং ভোগড়া বাইপাস এলাকায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও অন্যান্য পাওনা পরিশোধের বিষয়েও মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আগামী ৭ নভেম্বরের মধ্যে বকেয়া পাওনা পরিশোধের বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে শ্রম মন্ত্রণালয়।
সরকারের পক্ষ থেকে নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ পুরোপুরি কাটেনি। নতুন মজুরি নির্ধারণের কার্যক্রম দ্রুত শুরু এবং দাবিগুলোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার অপেক্ষায় রয়েছেন শ্রমিকরা। শিল্পাঞ্চলগুলোতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য করুন