
বগুড়ার শেরপুর সরকারি কলেজের খেলার মাঠের চারপাশে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করা হলেও যানবাহন চলাচলের কোনো প্রবেশপথ রাখা হয়নি। মাঠের এক কোণে দেয়ালের দুই পাশে রয়েছে দুটি সিঁড়ি, যা দিয়ে কেবল পায়ে হেঁটে চলাচল করা যায়। ফলে অগ্নিকাণ্ড, দুর্ঘটনা কিংবা জরুরি রোগী পরিবহনে সরাসরি মাঠে প্রবেশ করতে পারছেন না এলাকাবাসী। বিকল্প পথে দীর্ঘ সরু গলি ঘুরে রোগীর বাড়িতে পৌঁছাতে ২০ থেকে ৩০ মিনিট সময় লাগছে। জরুরি মুহূর্তে অ্যাম্বুলেন্স কিংবা অগ্নিনির্বাপণে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি প্রবেশের কোনো সুযোগ নেই। এমনকি সরু গলির কারণে একটি রিকশা নিয়েও সহজে এলাকায় পৌঁছানো যায় না। ফলে রোগী পরিবহনসহ জরুরি বিভিন্ন সেবায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয়দের।
বিশেষ করে কলেজসংলগ্ন শ্রীরামপুর পাড়া এলাকাটি অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ। আশপাশের প্রফেসরপাড়া থেকে সংযুক্ত অধিকাংশ সড়কই সরু। কোথাও কোথাও একটি রিকশা নিয়ে প্রবেশ করতেও চালকদের বেশ বেগ পেতে হয়। রাস্তার দুই পাশের বাড়িঘর খুব কাছাকাছি হওয়ায় চলাচলের জায়গা সংকীর্ণ। অনেক বাড়ির সানশেড ও দেয়াল রাস্তার দিকে বেরিয়ে থাকায় রিকশা চলাচলের সময় সেগুলোর সঙ্গে ধাক্কা লেগে গাড়ির ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ কারণে অনেক চালক এসব গলিতে প্রবেশ করতে অনীহা প্রকাশ করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় কেউ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে একটি রিকশার জন্য কখনো কখনো প্রায় ৩০ মিনিট অপেক্ষা করতে হয়। দ্রুত রিকশা পাওয়া গেলেও রোগীর শারীরিক অবস্থা অনেক সময় এমন থাকে যে তার পক্ষে পায়ে হেঁটে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে কলেজ রোড সড়কে পৌঁছানো সম্ভব হয় না। ফলে রোগীকে বাড়ি থেকে সরাসরি মূল সড়কে নেওয়ার পরিবর্তে রিকশা নিয়ে ঘুরে আসতে হয় কলেজ মসজিদ সড়ক, উপজেলা সড়ক কিংবা প্রফেসরপাড়া থেকে শ্রীরামপুর পাড়ার সঙ্গে সংযুক্ত দীর্ঘ সরু গলিগুলো পেরিয়ে। এতে রোগীর বাড়িতে পৌঁছাতেই প্রায় ২০ মিনিট বা তারও বেশি সময় লেগে যায়। জরুরি মুহূর্তে এমন বিলম্ব রোগী ও স্বজনদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তোলে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এদিকে, কলেজ মাঠের পাশ দিয়েই চলে গেছে শেরপুর কলেজ রোড সড়ক। মাঠের বাউন্ডারি ওয়ালে যানবাহন চলাচলের উপযোগী একটি প্রবেশপথ থাকলে মূল সড়ক থেকে সরাসরি মাঠে প্রবেশ করে আশপাশের বাড়িঘরে দ্রুত পৌঁছানো সম্ভব হতো বলে জানান স্থানীয়রা। তাদের দাবি, এতে জরুরি রোগী পরিবহন, অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধারকাজের প্রয়োজনে যানবাহন চলাচলের বিকল্প ব্যবস্থা তৈরি হতো। একই সঙ্গে দীর্ঘ পথ ঘুরে সরু গলি পেরিয়ে রোগীর বাড়িতে পৌঁছানোর ভোগান্তিও কমত।
ভুক্তভোগী মাসুদ সরকার বলেন, “জরুরি মুহূর্তে রোগী নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। সরু গলিতে রিকশা ঢুকতে চায় না, আর গুরুতর অসুস্থ রোগীর পক্ষে হেঁটে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়াও সম্ভব নয়। কলেজ মাঠে যানবাহন চলাচলের পথ না থাকাটা এলাকাবাসীর জন্য বড় দুর্ভোগ।”
শুধু রোগী পরিবহন নয়, অগ্নিকাণ্ডের মতো বিপর্যয়ের সময়ও যানবাহন প্রবেশের বিকল্প পথ না থাকায় বড় ধরনের সমস্যার আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল। তাদের ভাষ্য, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় আগুন লাগলে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানো এবং প্রয়োজনীয় উদ্ধারকাজ পরিচালনা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ সরু গলি ও মাঠে যানবাহন প্রবেশের ব্যবস্থা না থাকায় এমন পরিস্থিতিতে সময়মতো সেবা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে এমন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাদের। বিভিন্ন সময় জরুরি পরিস্থিতিতে নানা সমস্যার মুখোমুখি হলেও স্থায়ী সমাধান মেলেনি। তারা আর কোনো ঝুঁকি নিতে চান না। বিষয়টি একাধিকবার কলেজ কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ তাদের। দ্রুত যানবাহন চলাচলের উপযোগী প্রবেশপথ নির্মাণ করে এ দুর্ভোগের অবসান চান এলাকাবাসী।
তাদের দাবি, কলেজ মাঠের নিরাপত্তা ও সৌন্দর্য অক্ষুণ্ন রেখেই যানবাহন চলাচলের উপযোগী একটি প্রবেশপথ নির্মাণ করা হোক। এতে মাঠের স্বাভাবিক ব্যবহার ব্যাহত না করে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সেবা পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হবে। তাদের প্রত্যাশা, কলেজ কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে। দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তি নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
মন্তব্য করুন