
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় ভোলাবাদশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষিকার আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার মূল রহস্য উদ্ঘাটিত হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এই ঘটনার পেছনে সহকর্মী শিক্ষক ও কতিপয় সাংবাদিকের সংঘবদ্ধ ব্ল্যাকমেইল এবং চাঁদাবাজির হাত রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি কঠোর হাতে বন্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন ওই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। স্কুলের দুর্নীতিতে বাধা দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে তার কিছু সহকর্মী একটি বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করেন এবং গোপনে ভিডিও ধারণ করে তাকে ব্ল্যাকমেইল করা শুরু করেন।
পরবর্তীতে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার নাম করে স্থানীয় কিছু কুচক্রী সাংবাদিক তাদের কাছে মোটা অংকের টাকা চাঁদা দাবি করেন। কিন্তু সেই চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে, ক্ষিপ্ত হয়ে তারা গোপন ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয় এবং তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়।
জানা যায়, এই ঘটনা নিয়ে গত ৮-৯ মাস ধরে উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও জেলা শিক্ষা অফিসার তদন্ত করে বিষয়টি মীমাংসা করেছিলেন। কিন্তু দাবীকৃত চাঁদার টাকা না দেওয়ায় পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ভিডিওটি এখন নতুন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল করে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে বিদ্যালয়ের ভেতরের দুর্নীতি ঢাকতে এবং সৎ ও দায়িত্বশীল শিক্ষককে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতেই পরিকল্পিতভাবে এই অপপ্রচার চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকার শিক্ষক সমাজ ও সাধারণ জনগণ।
মন্তব্য করুন