
কৃষি ও গৃহকর্মে নিয়োজিত শ্রমিক ছাড়া ব্যক্তিমালিকানাধীন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রাপ্তবয়স্ক অদক্ষ ও তরুণ শ্রমিকদের জন্য নিম্নতম মজুরি বোর্ডের প্রস্তাবিত মজুরি হারকে ‘অযৌক্তিক, অনৈতিক ও আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক’ আখ্যা দিয়ে তা অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানিয়েছে সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট।
রোববার (১৬ আগস্ট) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত সমাবেশ থেকে এ দাবি জানানো হয়। পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সংগঠনের পক্ষ থেকে নিম্নতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে এ বিষয়ে লিখিত আপত্তি জানানো হয়।
সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি রাজেকুজ্জামান রতনের সভাপতিত্বে সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব বুলবুল। এতে বক্তব্য দেন সহ-সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, সহ-সম্পাদক ইমাম হোসেন খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক খালেকুজ্জামান লিপন, নির্বাহী সদস্য কিবরীয়া হোসেন ও কোহিনুর আক্তার কণা।
সমাবেশে নেতারা বলেন, গত ৩ আগস্ট প্রকাশিত খসড়া সুপারিশে প্রাপ্তবয়স্ক অদক্ষ শ্রমিকের জন্য মাত্র ৪ হাজার ৪৩০ টাকা এবং তরুণ শ্রমিকের জন্য ৪ হাজার ৭৫ টাকা নিম্নতম মূল মজুরি নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমান বাজারদর, জীবনযাত্রার ব্যয় ও শ্রমিকদের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় এ মজুরি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তাদের দাবি, বর্তমানে মুদ্রাস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে শ্রমিকরা জাতীয় নিম্নতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি জানাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে কোনো সুস্পষ্ট ও যৌক্তিক মানদণ্ড ছাড়া এত কম মজুরি নির্ধারণের প্রস্তাব শ্রমিকদের মজুরি কমানোর অপচেষ্টা।
নেতারা আরও বলেন, বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬-এর ধারা ১৩৯(১)-এ নির্দিষ্ট শিল্প খাতের ভিত্তিতে নিম্নতম মজুরি নির্ধারণের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন শ্রম খাত নির্দিষ্ট করা হয়েছে এবং খাতভেদে মজুরি হারও নির্ধারিত রয়েছে। ফলে সব ব্যক্তিমালিকানাধীন শিল্প খাতের শ্রমিকদের একত্র করে একই মজুরি নির্ধারণের প্রক্রিয়া আইনসঙ্গত কি না, তা পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।
এ ছাড়া শ্রম আইনের ধারা ১৪১ অনুযায়ী মজুরি নির্ধারণের ক্ষেত্রে জীবনযাত্রার ব্যয়, উৎপাদনশীলতা, মূল্যস্ফীতি ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনার কথা উল্লেখ করে নেতারা বলেন, প্রস্তাবিত মজুরি নির্ধারণে এসব বিষয় যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের নেতারা প্রশ্ন তোলেন, নিম্নতম মজুরি বোর্ডে শ্রমিক পক্ষের সদস্য কে ছিলেন এবং তাকে নির্বাচনের প্রক্রিয়া কী ছিল। একই সঙ্গে প্রস্তাবিত মজুরি নিয়ে শ্রমিক পক্ষের সদস্যরা কেন আপত্তি জানাননি, সে বিষয়েও ব্যাখ্যা দাবি করেন তারা।
তারা আরও বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর বৈষম্য বিলোপের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব হলো কর্মক্ষম মানুষের জন্য ন্যায্য মজুরিভিত্তিক কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করা। তাই শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত করে এমন কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলে তা শ্রমিকদের মধ্যে নতুন করে ক্ষোভ তৈরি করতে পারে।
সমাবেশ থেকে সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের দাখিল করা আপত্তিপত্র বিবেচনা করে প্রস্তাবিত খসড়া মজুরি সুপারিশ অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানানো হয়। প্রয়োজনে স্বীকৃত শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে বাজারদর ও বর্তমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মজুরি পুনর্নির্ধারণের আহ্বান জানান সংগঠনের নেতারা।
পরে সংগঠনের সভাপতি রাজেকুজ্জামান রতন ও সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব বুলবুল স্বাক্ষরিত আপত্তিপত্রটি নিম্নতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে জমা দেওয়া হয়।
মন্তব্য করুন