
রাজনীতির ইতিহাসে নেতৃত্ব কখনো হঠাৎ জন্ম নেয় না; দীর্ঘ ত্যাগ, অসংখ্য প্রতিকূলতা, আন্দোলন-সংগ্রাম এবং আদর্শের প্রতি অটল বিশ্বাসের মধ্য দিয়েই একজন কর্মী হয়ে ওঠেন নেতৃত্বের প্রতীক। বগুড়ার শেরপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে তেমনই এক পরিচিত মুখ মো. ইমরান খান, যার দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা আজ নতুন প্রত্যাশা ও সম্ভাবনার দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়ে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০০৫ সালের মে মাসে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে তার রাজনৈতিক পথচলার সূচনা। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি দলীয় কর্মসূচি, আন্দোলন-সংগ্রাম এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। রাজপথের মিছিল থেকে শুরু করে দলের কঠিন সময়ে নেতাকর্মীদের পাশে থাকা – প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি নিজেকে একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী হিসেবে প্রমাণ করেছেন, এমনটাই জানিয়েছেন তার অনুসারীরা।
শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভাষ্য, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ, সাবেক সফল প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন নেতৃত্ব ও দেশপ্রেম এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বিএনপির চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্ব, সাহস ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন থেকে অনুপ্রাণিত ইমরান খান এগিয়ে চলেছেন রাজনীতিতে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার স্বীকৃতি হিসেবে ২০১২ সালে শেরপুর উপজেলা যুবদলের তথ্য বিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হন তিনি। পরবর্তীতে ২০২১ সালে শেরপুর শহর স্বেচ্ছাসেবক দলের ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব লাভ করেন। দায়িত্ব পালনের সময় সংগঠনকে সুসংগঠিত করা, নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন ইমরান।
দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় তার যেমন অর্জন রয়েছে, তেমনি রয়েছে কঠিন পরীক্ষার মুহূর্তও। স্বৈরাচারের রক্তচক্ষুর শিকার হয়ে ২০২৩ সালের ২০ নভেম্বর গ্রেফতারের পর কয়েক মাস কারাবরণ করতে হয় তাকে। কিন্তু কারাগারের চার দেয়াল তার মনোবল ভাঙতে পারেনি, বরং সেই সময়ই তাকে আরও দৃঢ়চেতা ও সংগ্রামী করে তুলেছে বলে জানা গেছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ২০২৪ সালের ৩০ জানুয়ারি মুক্তি লাভ করে তিনি আবারও ফিরে আসেন কর্মীদের মাঝে, ফিরে আসেন চিরচেনা রাজপথের পরিচিত সংগ্রামে।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে, ইমরান খান শুধু একজন রাজনৈতিক সংগঠক নন; তিনি কর্মীদের আস্থার জায়গা, বিপদে-আপদে পাশে থাকা একজন সহযোদ্ধা। দলের প্রতি আনুগত্য, কর্মীদের প্রতি আন্তরিকতা এবং রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও অটুট অবস্থান তাকে তৃণমূলের কাছে একজন পরীক্ষিত ও নির্ভরযোগ্য নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
সংগ্রামের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে আজও তিনি বিশ্বাস করেন আদর্শের রাজনীতিতে। তার প্রত্যাশা, ভবিষ্যতেও দল ও জনগণের কল্যাণে আরও বৃহত্তর পরিসরে কাজ করার সুযোগ পাবেন। আর সেই স্বপ্নকে বুকে ধারণ করেই এগিয়ে চলেছেন শেরপুরের এই সংগ্রামী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব – যার রাজনৈতিক জীবনের প্রতিটি অধ্যায় লেখা হয়েছে ত্যাগ, সাহস ও অদম্য প্রত্যয়ের গল্প।
মন্তব্য করুন