এলিন মাহবুব, সাবেক শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় : আন্তর্জাতিক সম্পর্ক আজ আর শুধু সীমান্ত, যুদ্ধ বা কূটনৈতিক বৈঠকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই—এটি এখন অর্থনীতি, প্রযুক্তি, জলবায়ু, অভিবাসন, তথ্যপ্রবাহ ও মানবাধিকারসহ জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে সরাসরি প্রভাব ফেলে। একবিংশ শতাব্দীর বিশ্বায়িত বাস্তবতায় কোনো দেশ একা এগিয়ে যেতে পারে না; পারস্পরিক নির্ভরতা এখন অনিবার্য সত্য।
বর্তমানে বিশ্বরাজনীতিতে ক্ষমতার ভারসাম্য পরিবর্তন হচ্ছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা, অন্যদিকে চীন এবং উদীয়মান শক্তিগুলো—এই প্রতিযোগিতামূলক বিন্যাস বহু ক্ষেত্রে উত্তেজনা সৃষ্টি করছে। তবে একই সঙ্গে বাণিজ্য, প্রযুক্তি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো ইস্যুতে সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তাও ক্রমেই বাড়ছে। অর্থাৎ প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও সহযোগিতা—দুটিই পাশাপাশি চলছে।
বৈশ্বিক দক্ষিণ বা উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এখন নতুন সুযোগ ও চ্যালেঞ্জের সমন্বয়। বড় শক্তিগুলোর মধ্যে টানাপোড়েনের মধ্যেও তারা নিজেদের স্বার্থ রক্ষা, অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদার এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে লাভবান হতে পারে। তবে এর জন্য দরকার দক্ষ কূটনীতি, সুস্পষ্ট পররাষ্ট্রনীতি এবং জাতীয় স্বার্থের প্রতি স্থির অঙ্গীকার।
আজকের বিশ্বে যুদ্ধ বা সামরিক শক্তি নয়, বরং জ্ঞান, প্রযুক্তি, অর্থনীতি ও নৈতিক অবস্থানই প্রকৃত শক্তির পরিচায়ক হয়ে উঠছে। জলবায়ু সংকট, শরণার্থী সমস্যা ও বৈশ্বিক বৈষম্যের মতো বিষয়ে মানবিক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা নেওয়াই একটি দেশের ভাবমূর্তি গড়ে দেয়। তাই আন্তর্জাতিক সম্পর্কে কঠোর ক্ষমতার রাজনীতির পাশাপাশি নরম শক্তির ব্যবহার—সংস্কৃতি, শিক্ষা, কূটনীতি ও উন্নয়নের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার—ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
আমার মতে, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে তিনটি শব্দে—সংলাপ, সহযোগিতা ও পারস্পরিক সম্মান। ঠাণ্ডা মাথার কূটনীতি, মতভেদ সত্ত্বেও কথোপকথন চালিয়ে যাওয়ার সাহস, এবং জাতির স্বার্থের সঙ্গে বৈশ্বিক স্বার্থের ভারসাম্য—এগুলোই আমাদের পৃথিবীকে সংঘাতের দিকে নয়, বরং শান্তি ও উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নিতে পারে।
মন্তব্য করুন