বগুড়ার ধুনটে প্রশাসনের অভিযানের পরও থামছে না অবৈধ মাটি খনন। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পুকুর খননের আড়ালে ফসলি জমির ওপর অবাধে চালানো হচ্ছে খননযন্ত্র। কাটা মাটি ট্রাক ও ট্রলির মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে কৃষিজমি হারাচ্ছে, পরিবেশ ও কৃষিক্ষেত্রেও মারাত্মক প্রভাব পড়ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসন মাঝে মাঝে অভিযান পরিচালনা করলেও তা অনেকটাই লোক দেখানোতে সীমাবদ্ধ থাকে। অভিযানের পর ২–৩ দিন মাটি কাটা বন্ধ থাকলেও পরবর্তীতে আবার সক্রিয় হয়ে ওঠে মাটি ব্যবসায়ী চক্র। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, প্রশাসন কি তাহলে এই অবৈধ মাটি বাণিজ্য ঘিরে ‘চোর-পুলিশ’ খেলায় মেতেছে?
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার চিকাশি ইউনিয়নের গজারিয়া স্কুল সংলগ্ন এলাকায় ফসলি জমির মাটি কেটে অবৈধভাবে বিক্রি করা হচ্ছে। এ কাজে জড়িত হিসেবে ছাত্রদল নেতা নাটাবাড়ি গ্রামের সুমনের নাম উঠে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি মাটি কেটে বিক্রি করলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া চৌকিবাড়ী ইউনিয়নের পাঁচথুপি গ্রামের মিয়াপাড়া ও সরোয়া এলাকাতেও একইভাবে মাটি কেটে বিক্রি করছে আরেকটি চক্র। এসব অবৈধভাবে কাটা মাটি পরিবহনের কারণে এলাকার সড়কগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ধুলোবালির কারণে বাড়ছে বিভিন্ন রোগব্যাধি, পাশাপাশি ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। এসব বিষয়ে প্রশাসনকে একাধিকবার জানানোর পরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাদের দাবি, শুধু মাঝে মাঝে অভিযান নয়, বরং স্থায়ীভাবে এই অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফ উল্লাহ নিজামী বলেন, অবৈধ মাটি খননের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন