নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার ১নং সাহাপুর ইউনিয়নের শিবরামপুর গ্রামের বাংলাবাজারের দক্ষিণ পাশে ছমি পাটোয়ারী বাড়ির সামনে (কচুয়া-চৌমুহনী) খালের ওপর নির্মিত প্রায় শত বছরের পুরনো একটি ব্রিজ বর্তমানে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে কোনো ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ না থাকায় ব্রিজটির পাটাতন ও পিলারে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে আস্তর ভেঙে পড়েছে। ফলে যেকোনো সময় এটি ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন এই ব্রিজ দিয়ে চলাচল করছে স্থানীয় বাসিন্দারা। ব্রিজটি অত্যন্ত উঁচু, সরু এবং দুই পাশে কোনো রেলিং না থাকায় অটো-সিএনজি, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনকে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রসাদপুর ও শিবরামপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে অসংখ্য মানুষ প্রতিদিন এই ব্রিজ ব্যবহার করে। এছাড়া শিবরামপুর (বাংলাবাজার) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সোমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সোমপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়, গার্লস স্কুল, কলেজ এবং খোয়াজের ভিটি ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন এই ব্রিজ পারাপার হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কাশেম, মো. ওমর ফারুক ও নাসির উদ্দিন পারভেজ জানান, প্রায় একশ বছর আগে যখন ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়, তখন কচুয়া-চৌমুহনী খাল দিয়ে নৌযান চলাচল করত। সেই কারণে ব্রিজটি অনেক উঁচু করে নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে এর উচ্চতা ও সরু গঠন দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা জানান, কয়েক বছর আগে এই ব্রিজ থেকে পড়ে এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। তাদের মতে, ব্রিজটির কার্যকারিতা অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে এবং এটি এখন শুধুমাত্র “দাঁড়িয়ে থাকা একটি ঝুঁকিপূর্ণ কাঠামো”।
স্থানীয়রা দ্রুত নতুন ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানিয়ে নোয়াখালী-১ (চাটখিল-সোনাইমুড়ি) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনের মাধ্যমে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে শিবরামপুর গ্রামের বাসিন্দা, ১নং সাহাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সমাজসেবক ফিরোজ আলম বাবলু বলেন, “ব্রিজটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। আমরা দ্রুত নতুন ব্রিজ নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করবো।”
১নং সাহাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবদুল্যাহ খোকন জানান, “ব্রিজটি অনেক বছর ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ। তবে ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব কোনো বাজেট না থাকায় আমরা উপজেলা পিআইও অফিসকে বিষয়টি অবহিত করেছি।”
এ বিষয়ে চাটখিল উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. শাহিনুর আলম বলেন, “ব্রিজটির সংযোগ সড়ক এলজিইডির আওতাভুক্ত হলে আমরা বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করতে পারবো। সরেজমিনে পরিদর্শনের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মন্তব্য করুন