
বগুড়ার ধুনট উপজেলার মথুরাপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে সরকারি সম্মানি ভাতাকে কেন্দ্র করে ইমাম ও মসজিদ পরিচালনা কমিটির মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে। এ বিরোধের জেরে মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা রুহুল আমিন সোহাগকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে মসজিদ পরিচালনা কমিটির দাবি, সরকারি ভাতা নয়; বরং দায়িত্ব পালন ও বেতন কাঠামো নিয়ে মতবিরোধের কারণেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আওতায় প্রাপ্ত সরকারি সম্মানি ভাতার অর্থ মসজিদ ফান্ডে জমা দেওয়ার জন্য ইমাম রুহুল আমিনকে চাপ দেওয়া হয়। তিনি এতে রাজি না হওয়ায় গত ২৭ মে রাতে মোবাইল ফোনে তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির বিষয়টি জানানো হয়।
ইমাম রুহুল আমিন সোহাগ বলেন, “সরকারি সম্মানি ভাতা সরকার আমাকে ব্যক্তিগতভাবে প্রদান করে। এটি আমার প্রাপ্য। আমি সেই অর্থ মসজিদ ফান্ডে দিতে রাজি হইনি। এরপরই আমাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।”
তবে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. ফিরোজ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সরকারি ভাতার কারণে নয়, বরং মুসল্লিদের অসন্তোষ ও দায়িত্ব পুনর্বিন্যাসের বিষয়টি থেকেই সমস্যার সূত্রপাত।
তিনি জানান, নিয়োগের সময় রুহুল আমিনকে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে ইমামতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। পরে তার তেলাওয়াত নিয়ে কিছু মুসল্লির আপত্তি ওঠায় কমিটি সিদ্ধান্ত নেয়, তিনি কেবল জোহর ও আসর নামাজে ইমামতি করবেন এবং বাকি তিন ওয়াক্তের জন্য অন্য একজন ইমাম নিয়োগ করা হবে।
সভাপতির ভাষ্য, “এই পরিস্থিতিতে তার নির্ধারিত ১০ হাজার টাকা বেতনের অর্ধেক অর্থ নতুন ইমামকে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়। একই সঙ্গে তাকে জানানো হয়, সরকারি সম্মানি ভাতা তিনি নিজেই গ্রহণ করবেন; সেটি মসজিদ ফান্ডে জমা দেওয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। কিন্তু তিনি পূর্ণ বেতন এবং সরকারি ভাতা—দুটিই দাবি করেন। এ নিয়ে মতবিরোধের সৃষ্টি হয়।”
মসজিদের খতিব মুফতি গোলাম রব্বানী বলেন, “ঘটনাটি নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য ভিন্ন। বিষয়টি সম্পর্কে আমি এখনও বিস্তারিত জানি না।”
এ বিষয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ধুনট ফিল্ড সুপারভাইজার মীর আরিফুল ইসলাম বলেন, সরকারি সম্মানি ভাতা ইমামদের বেতনের বাইরে সম্পূর্ণ পৃথকভাবে সরকার প্রদান করে। এ অর্থের ওপর মসজিদ কর্তৃপক্ষের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই এবং ইমামকে তা মসজিদ ফান্ডে জমা দিতে বাধ্য করার সুযোগও নেই।
তিনি আরও জানান, ঘটনাটি নিয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক (ডিডি) এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পৃথকভাবে অভিযোগ করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে।
ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফ উল্লাহ নিজামী বলেন, “অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি সম্মানি ভাতা সরাসরি ইমামের নামে বরাদ্দ হলেও স্থানীয় মসজিদ কমিটি ও ভাতাপ্রাপ্ত ইমামের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে সুস্পষ্ট নীতিমালা না থাকায় এ ধরনের বিরোধের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন ভাতা প্রদান করলেও ইমামদের চাকরির নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা না থাকায় অনেক ক্ষেত্রেই জটিলতা দেখা দেয় বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
মন্তব্য করুন