
বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহারে অনুমোদন ছাড়াই অটোরিকশা মালিক সমিতির কার্যক্রম পরিচালনা এবং বিভিন্ন খাতের নামে চালক ও মালিকদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সংগঠনটির কার্যক্রম ও আদায়কৃত অর্থের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় অটোরিকশা শ্রমিকদের একাংশ।
অভিযোগ অনুযায়ী, ‘আদমদীঘি উপজেলা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা মালিক সমিতি’ নামের সংগঠনটি সান্তাহার পৌর শহরের মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটের একটি কার্যালয় থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সংগঠনের সদস্য হতে ৩০০ টাকা, প্রতিদিন সিরিয়ালে গাড়ি চালানোর জন্য ২০ টাকা, মালিকের বই বাবদ ৫০০ টাকা এবং চালকের লাইসেন্স বই বাবদ ২০০ টাকা নেওয়া হয়। প্রায় ৬০০ অটোরিকশা মালিক ও চালক সংগঠনটির সদস্য বলে জানা গেছে।
সান্তাহার পৌর শহরের ঘোড়াঘাট, মালশন, দোগাছী ও স্টেশন রোড এলাকার বিভিন্ন স্ট্যান্ডে এসব অর্থ আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে সংগঠনের পক্ষ থেকে আদায়কৃত অর্থের আয়-ব্যয়ের হিসাব সদস্যদের কাছে নিয়মিত উপস্থাপন করা হয় না বলেও অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ ছাড়া সংগঠনের নামে পৌরসভার অনুমোদন ছাড়াই লাইসেন্স বই ও নেমপ্লেট ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এসব কার্যক্রমের বৈধতা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে অর্থ আদায় চললেও বিষয়টি নিয়ে দৃশ্যমান প্রশাসনিক পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
অর্থ আদায় ও সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্বে ক্যাশিয়ার শুভ নামে এক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে সংগঠনটির ক্যাশিয়ার শুভ জানান, পৌরসভার লাইসেন্স পরিদর্শক আলমের অনুমতি নিয়ে আগে কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। তবে বর্তমানে তা বন্ধ রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এখনো সদস্য ভর্তি, সিরিয়াল পরিচালনা ও রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম চালু আছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।
সান্তাহার পৌরসভার মুখপাত্র ও সহকারী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান তালুকদার বলেন, পৌরসভার নাম ব্যবহার করে অর্থ আদায়ের কোনো সুযোগ নেই। পৌরসভা থেকে এ ধরনের কোনো লাইসেন্স বা বই ইস্যু করা হয়নি।
বগুড়া জেলা পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ, পিপিএম বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এদিকে সংগঠনটির অনুমোদন, অর্থ আদায়ের বৈধতা এবং সংগৃহীত অর্থের ব্যবহারের বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
মন্তব্য করুন