
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের এক নেতাকে আটক করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। রোববার (১৪ জুন) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে তাকে আটক করা হয়।
আটকৃত ব্যাক্তি সোলেমান আলী। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান (বোটানি) বিভাগের ২০১৯–২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। পাশাপাশি তিনি রাবি শাখা ছাত্রলীগের হবিবুর রহমান হলের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। সোলেমান আলীর পিতা আব্দুল কাদের। তার গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর উপজেলার হাগুড়াকুড়ি গ্রামে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রক্টর দপ্তর সূত্রে জানা যায়, ক্যাম্পাসে অবস্থানের খবর পেয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা সোলেমানকে আটক করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উপস্থিতিতে তাকে মতিহার থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, জুলাই আন্দোলনের সময় ছাত্রলীগ নেতা গালিবসহ মাদার বখস হলের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের ঘটনায় সোলেমানের সম্পৃক্ততা ছিল। এছাড়া অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে সারারাত নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে আরও জানা গেছে, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা একটি মামলায় এবং সম্প্রতি ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের পোস্টার লাগানোর ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার সন্দেহে তাকে আটক করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন, আটককৃত ছাত্রলীগ নেতা জুলাই বিপ্লবের সময়ে আমাদের এক শিক্ষার্থীকে মাথায় পিস্তল ঠেকিয়েছিল। আজকে কিছু শিক্ষার্থী তাকে ধরে আমার দপ্তরে নিয়ে এসেছে। তার কাছ থেকে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীদের সাথে কথপোকথনের প্রমাণ মিলেছে। আমরা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছি। বাকি বিষয় প্রশাসন দেখবেন।
এ বিষয়ে নগরীর মতিহার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল মালেক বলেন, সে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সন্ত্রাস বিরোধী আইনের আসামি। কিছুদিন আগে শাহ মখদুম এলাকায় একটি মিছিল বের হয়েছিল, সেখানে সে উপস্থিত ছিল। সেখানকার মামলার সে আসামী। সে আপাতত থানায় আছে, তাকে কোর্টে চালান করা হবে।
মন্তব্য করুন